কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওরাঞ্চলে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর হাওরে শুরু হয় বোরো ধানের প্রস্তুতি। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই সার ও কীটনাশকের সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। বাজারে বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
বর্ষার পানি চলে যাওয়ায় হাওরে ভেসে উঠেছে আবাদি জমি গুলো। এরই মধ্যে বীজতলার কাজ শেষ করেছে কৃষক। বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি বোরো ধানের আবাদ। মৌসুমের শুরুতেই সার, কীটনাশক সংকটের অভিযোগ কৃষকদের। বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওর অঞ্চলের হাজারো কৃষক। মাঠে জমি প্রস্তুতির সময় হলেও প্রয়োজনীয় উপকরণ না পাওয়ায় আবাদ শুরু করতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তারা। হাওরাঞ্চলের অষ্টগ্রাম মিঠামইনসহ বিভিন্ন উপজেলার দোকানগুলোতে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি সব সারের দামই গত কয়েক সপ্তাহে বেড়েছে। বিশেষ করে ইউরিয়ার প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি মূল্য গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। একই সঙ্গে কীটনাশক ও স্প্রে তেলের মূল্যও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। হাওরাঞ্চলে বোরো ধানই অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য। সারা বছরের খাদ্যনিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতির বড় অংশই নির্ভর করে এ ফসলের ওপর। মৌসুমের শুরুতেই যদি এমন সংকট তৈরি হয়, তাহলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে-বলে মনে করছেন কৃষকরা।
কৃষক নরহরি, কামাল মিয়া, বলেন, আমরা হাওরের জমিতে একটি ফসলের উপর নির্ভরশীল প্রতিবছর সার,কীটনাশক, ডিজেল, শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানের ন্যায্য মূল থেকে বঞ্চিত হয়।
কৃষক তারা মিয়া, ফারুক মিয় বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বোরো ধান মেরুদ-স্বরূপ। উপজেলার কমপক্ষে ৬০ শতাংশ মানুষের জীবন জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এখন বোরো ধানের চারা রোপণের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দোকানগুলোতে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি সব সারের দামই বেড়েছে। প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি মূল্য গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কীটনাশক ও স্প্রে তেলের মূল্যও বেড়েছে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সার সংকট নয়-এখনও পুরোদমে বোরো আবাদ শুরু না হওয়ায় ডিলারদের সার বিক্রিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা রাখতে বলা হয়েছে। হাওর অঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চারা রোপণ করেন। কৃষি অফিসের তথ্যমতে- এবছর জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হবে। যার মধ্যে শুধু হাওরে চাষ হবে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমি।