ফুরফুরে মেজাজে ক্ষেতের মরিচ তুলছেন কৃষক। দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা উপজেলা ফুলবাড়ী। এখানে নেই কলকারখানার ব্যস্ততা, নেই শহরের চাকচিক্য—এখানকার মানুষের বেঁচে থাকা জড়িয়ে আছে কৃষির সঙ্গে ও মাটির সঙ্গে। আমন আর বোরো মৌসুমে ধান চাষেই সাধারণত কাটে তাদের দিন।
তবে ব্যতিক্রম উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষকরা। নিয়মের বাইরে গিয়ে এরা বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকিকে সঙ্গী করেই জমিতে তারা ফলিয়েছেন নানা ধরনের সবজি।
বীজ বপনের মুহূর্ত থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি দিনই তাদের একেকটি লড়াই। কনকনে শীত উপেক্ষা করে চলতি মৌসুমেও তারা চাষ করেছেন মরিচ, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুনসহ নানা শাকসবজি। এবারে কঠিন সংগ্রামের পর স্বপ্নপূরণ হয়েছে সবজি চাষিদের।
মরিচ চাষি জয়নাল আবেদীন জানান, এবার মরিচ চাষে মোটামুটি ধকল গেছে। জমিতে বীজ বপনের পর বৈরী আবহাওয়ার কারণে খেতে নানা রোগ দেখা দেয়। ফসল বাঁচাতে মোটা অংকের টাকা খরচ হয়েছে তার।
শুধু বেগুন ও মরিচ চাষিরাই নয়, এই এলাকার অন্যান্য শাক সবজি চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। এবার সবজির ভালো দাম পাওয়ায় তারা লাভের মুখ দেখতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন এবং আগামী দিনে আরও বেশি জমিতে সবজি চাষ করবেন বলে জানান তারা।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ শাহ্ জানান, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের মাটি সবজি চাষের উপযোগী। এখানকার অধিকাংশ কৃষক সবজি চাষ করেছেন। তিনি সবজি চাষে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। এবারের সঠিক পরিচর্যায় কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন।
8
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, উপজেলায় ১ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বিভিন্ন শাক সবজির আবাদ করেছেন। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় কৃষকরা আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছেন।