• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
Headline
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চুনারুঘাটের এএসআই প্রত্যাহার পানছড়িতে স্যাম ইউনিটের চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর ভৈরবে বাড়ির আঙ্গিনা থেকে সিঙ্গাপুর প্রবাসীর হাত-পা বাঁ’ধা লা/শ উদ্ধার সারাদেশে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পানছড়িতে বিএনপির বিক্ষোভ অষ্টগ্রামে জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ, বিএনপি নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ অষ্টগ্রামে জলমহাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫ নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা জয়পুরহাটে ৭২ কেজির কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪ সামাজিক ক্ষমতায়নে ব্র্যাকের সচেতনতামূলক সভা ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার, যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড

কোমর পানিতে ডুবেছে স্কুল, বন্ধ ৩৬০ এতিম-শিশুর পড়াশোনা

মো.শান্ত শেখ, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

টানা বর্ষণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা’ প্রাঙ্গণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩ দিন ধরে মাদ্রাসার পুরো মাঠ এবং শ্রেণিকক্ষগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। পানি নিষ্কাশনের সুনির্দিষ্ট কোনো ড্রেন বা নালা না থাকায় এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৩৬০ জন ছাত্র পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে নূরানী বিভাগেই রয়েছে প্রায় ২০০ জন কোমলমতি শিশু। দূর-দূরান্তের জেলা—যেমন দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী ও খুলনা থেকেও বহু শিক্ষার্থী এখানে এসে অনাবাসিক ও আবাসিক হিসেবে পড়ালেখা করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানি নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানাপত্রসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি জমে থাকায় গত তিন দিন ধরে শিক্ষকদের পক্ষে কোনো ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
“আমরা প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হই। একটু বৃষ্টি হলেই মাদ্রাসার ভবন ও পুরো এরিয়া তলিয়ে যায়। পানি বের হওয়ার কোনো লাইন না থাকায় আমরা নিরুপায়। কোমলমতি বাচ্চাদের পড়ানোর কোনো ব্যবস্থা করতে পারছি না। আমরা সরকার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—তাঁরা যেন দ্রুত ড্রেন নির্মাণের ব্যবস্থা করেন অথবা সরজমিনে তদন্ত করে এর একটি স্থায়ী সমাধান করেন।” — মাওলানা ইমদাদুল হক, সহকারী মোহতামিম, বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা।
মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই নূরানী বিভাগটি সবার আগে তলিয়ে যায়। পানি আটকে থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক মাওলানা মেহরাফ হোসেন নোমানী বলেন, “এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দরিদ্র ও এতিম বাচ্চারা পড়ালেখা করতে আসে। পুরো মাদ্রাসার মাঠ ও ক্লাসরুম এখন পানির নিচে। সরকার ও কোষাগারের দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের কাছে আকুল আবেদন—দ্রুত একটি ড্রেন নির্মাণ করে আমাদের এই শিশুদের সুন্দরভাবে লেখাপড়া করার পরিবেশ ফিরিয়ে দিন।”
স্থানীয় বর্নি গ্রামের একমাত্র বড় এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম সচল করতে এবং এতিম ও কোমলমতি শিশুদের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ড্রেন নির্মাণে প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category