নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশার দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসন, পেশাগত কাঠামো সংস্কার এবং নার্সিং–মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে একীভূত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে আজ (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাজীপুরে দুই ঘণ্টার প্রতীকী শাটডাউন পালন করেছেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ এবং কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স–মিডওয়াইফরা।
এ সময় বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) এবং বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস)-এর উদ্যোগে গাজীপুর জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নার্সদের দাবি—স্বাস্থ্য উপদেষ্টার আশ্বাস পাওয়ার পরও গত ১৪ মাসে তাদের পদোন্নতি, নিয়োগব্যবস্থা, প্রশাসনিক বৈষম্য দূরীকরণ কিংবা কাঠামোগত সমস্যার সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ৪৮ বছর ধরে চলমান স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন ও নার্সিং–মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিলুপ্ত করে অন্য অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নার্সিং খাতকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে নার্সদের মতামত না নেওয়া এবং তাদের ন্যায্য অধিকার উপেক্ষা করায় তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, জাকির হোসেন, রীনা আক্তার, সিনিয়র স্টাফ নার্স কামরুজ্জামান প্রধান। এছাড়া নার্সেস ও মিডওয়াইফারি সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবুল ফজল, সদস্য সচিব শাহীনুর আক্তার, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষক মোখলেছুর রহমান, জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, সিনিয়র স্টাফ নার্স সাইফুল ইসলাম, খান মো. মফিজ, নাজমা খাতুন, সামসুল হক হাশিম, বিএনএ সভাপতি নাজমা ইয়াসমিন এবং মিডওয়াইফ শাহীনুর আক্তারসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, নার্সদের পদোন্নতি, নিয়োগব্যবস্থা, প্রশাসনিক বৈষম্য ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি বহুদিন ধরেই ঝুলে আছে। গত ১৪ মাসে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক,স্বতন্ত্র অধিদপ্তর বিলুপ্ত করে একীভূতকরণের অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, নার্সিং পেশার মানোন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিয়োগ জটিলতা নিরসন এবং পদোন্নতির কাঠামো সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি।
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।