শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় চারটি মন্দির কমিটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধ ও জটিলতার অবসান হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা, পূজা-পার্বণের সময়সূচি এবং মন্দির ব্যবস্থাপনা নিয়ে এ বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইদিলপুর ও সামন্তসার ইউনিয়নের তুশিরগাঁও বাজার সর্বজনীন দুর্গা/ফালীক মন্দির, চরজুশিরগাঁও রাধা কৃষ্ণাংশী শ্রী ফার্সী মন্দির, তারুলিয়া শ্রীশ্রী মহামানব গণেশ পাগল মন্দির এবং নন্দীগ্রাম শ্রী শ্রী শিব মন্দির, এই চারটি মন্দির কমিটির মধ্যে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। একাধিকবার আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এতদিন কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু চারটি মন্দির কমিটির প্রতিনিধি, স্থানীয় সুধীজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে প্রত্যেক পক্ষের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনার পর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার নিষ্পত্তি করা হয়।
এ সময় মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু বলেন,
“সকল ধর্মের মানুষের পরিচয় এক—আমরা সবাই মানুষ। ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ নয়, বরং সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই সমাজ এগিয়ে যায়। গোসাইরহাটসহ পুরো শরীয়তপুরে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”সরকারি শামসুরহমান কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বিশ্বনাথ বাবু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই চারটি মন্দিরকে ঘিরে যে সমস্যা চলছিল, তা নিয়ে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন ছিলেন। অতীতে অনেকেই সমাধানের চেষ্টা করলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেছেন।”
মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়ায় ভবিষ্যতে ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসীর মতে, গোসাইরহাটে চারটি মন্দির কমিটির এই শান্তিপূর্ণ সমাধান ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এর আগে গোসাইরহাট থানাধীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সরকারি শামসুরহমান কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বাবু বিশ্বনাথ,বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, গোসাইরহাট উপজেলা সভাপতি বিপ্লব কমার দাস,ইদিলপুর সরকাঠী পাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক শ্রী রতন চক্রবর্তী
,হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, গোসাইরহাট উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তপন কমার,৯ নং দ্বীপুর দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুমন নন্দী,মাদুয়াখালী দুর্গা মন্দিরের সভাপতি সমীর মণ্ডল
,নাগেরপাড় আশ্রম (গৌর নিতাই মন্দির) এর সাধারণ সম্পাদক আঞ্জন দত্ত প্রমুখ।