• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
Headline
জনগণের কথা না শুনলে আমরা পথ হারাবো : আইনমন্ত্রী পাঁচবিবিতে বেড়া ভেঙে ফলদ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ মুকসুদপুরে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের মধ্য দিয়ে বিজের শাখা কার্যালয় উদ্বোধন ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার কাশিয়ানীতে ৩২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ পাঁচবিবিতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় মেহেদী হ’ত্যা: চার আসামির নাম প্রকাশ, অটোরিকশা উদ্ধার গোপালগঞ্জে সরকারি পুকুর ও সড়কের গাছ কেটে নেওয়ার দুই পৃথক অভিযোগ নাসিরনগরে স্পিডবোট বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষে নি’হ’ত ২ কুলিয়ারচরে হাতকড়াসহ পালানো আ. লীগ নেতা ১০ ঘণ্টা পর ফের আটক

ঘর ভাড়া মেটাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন রেহানা বেগম

তরিকুল মোল্লা, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
প্রকাশকাল : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়া ও মাথা গোজার ঠাই নিশ্চিত করার তাগিদে মায়ের কাছে নিজের সৌন্দর্যও যখন তুচ্ছ হয়ে যায়, তখন সেই ত্যাগের গভীরতা বোঝা যায়। বাগেরহাটের রামপালে দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন রেহানা খাতুন। দারিদ্র্যের কষাঘাতে ঘর হারিয়ে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে রেহানা ও তার দুই সন্তানের। একসময় ভাড়া করা একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকলেও দীর্ঘদিন ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও হারাতে হয়েছে।ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করে দিতে হয়েছে এই অসহায় মাকে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর মর্মবেদনা সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেহানা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের মধ্যে দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোভাবে দিন পার করছিলেন। মাথা গোঁজার স্থায়ী জায়গা না থাকায় কখনো পরিচিতদের বাড়িতে, আবার কখনো ভাড়া করা ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিতেন। কিন্তু সামান্য সেই ভাড়াও পরিশোধ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ঘর ছাড়তে হয় তাকে। বর্তমানে রেলব্রিজের পাশে সরকারি জমিতে স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন রেহানা। কয়েক মাস ধরে সেখানে বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও অভাবের কারণে ঘরটি আর সম্পূর্ণ করতে পারেননি। ফলে প্রখর রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। কারণ জানতে চাইলে কাঁদতে কাঁদতে জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে তিনি নিজের চুল বিক্রি করেছেন।

সন্তোষপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা তালেব শেখ বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। তার স্বামী দুই সন্তান’সহ তাকে ফেলে চলে গেছেন অনেক আগে। আমরা গ্রামবাসি সরকারের কাছে দ্রুত অসহায় এই পরিবারটিকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করার দাবী জানাই।

মহিদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই ঘরটি সম্পন্ন করা সম্ভব। এলাকার সচ্ছল মানুষ ও প্রশাসন এগিয়ে এলে এই অসহায় পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাওয়ারও কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই। সন্তানদের নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত রেহানার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, আমি গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। অসহায় ওই নারী ও তার সন্তানদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রেহানার এই গল্প শুধু একজন অসহায় নারীর গল্প নয়, এটি দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। যে মা সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের সৌন্দর্য বিসর্জন দিতে পারেন, সেই মায়ের কাছে আজও একটি নিরাপদ আশ্রয় অধরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category