শিরোনাম :
বিরল ‘ক্যারোলি সিনড্রোমে’ আক্রান্ত নীলফামারীর সিরাতুলের বাঁচার আকুতি ভৈরবে নিখোঁজের চারদিন পর ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার ছিনতাই করতে ভৈরবে বাসা ভাড়া নেন নারী ছিনতাইকারী চক্র কুলিয়ারচরে ১৬ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক ভূরুঙ্গামারীতে ৭ বছরেও শেষ হয়নি ১৩৬ কোটি টাকার সেতুর কাজ চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি আটক ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পুলিশের অভিযানে মাদক সম্রাট হুমায়ুন আটক হলুদ-মরিচ গুড়ার ভিতরে মাদক, সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে আটক ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জোরপূর্বক জমি দখল ও চাঁ’দা’বা’জির বিরুদ্ধে মা’নববন্ধন ভৈরবে ৪ ফার্মেসীর মালিককে জরিমানা করেছে ম্যাজিট্রেট ও ঔষধ প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের ১৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি / ৫৬ Time View
Update : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনই তাঁদের জামানত হারিয়েছেন। জামানত খোয়ানো এসব প্রার্থীর তালিকায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যও রয়েছেন। মূলত প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাঁদের জামানত হিসেবে জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং কার্যালয় থেকে পাওয়া প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলার তিনটি আসনেই লড়াই হয়েছে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। এই দুই দলের প্রার্থী বাদে বাকিরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত ফেরত পেতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বা আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হয়।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৭ ভোট। এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৪১টি। নিয়ম অনুযায়ী জামানত রক্ষায় অন্তত ৪৮ হাজার ৯১৭টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম মাত্র ৩ হাজার ৯৫১ ভোট পাওয়ায় তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবদুস সালাম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৯ জন এবং ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮৮টি। জামানত ফেরত পেতে এখানে ৩১ হাজার ৪৮টির বেশি ভোটের প্রয়োজন ছিল। এই কোটা পূরণ করতে না পারায় জাতীয় পার্টির নূরুন নাহার বেগম (২,৮৭৬ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের ফারুক হাসান (১,৮৪৩ ভোট), এবি পার্টির নাহিদ রানা (৪৫১ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের রেজাউল করিম (৪৩৭ ভোট) এবং সিপিবির সাহাবউদ্দিন আহাম্মেদ (৩৮০ ভোট) তাঁদের জামানত হারিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে প্রার্থীদের জামানত হারানোর হার সবচেয়ে বেশি। এখানে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনই জামানত খুইয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে এই আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৯১ হাজার ৯৩৪ ভোট। ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৬৮টি ভোট পড়া এই আসনে জামানত রক্ষায় প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩২ হাজার ৮৩৩ ভোট। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (২৭,১৩৩ ভোট), সিপিবির প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম (১,৫৪৮ ভোট), ইসলামী আন্দোলনের আল আমিন (১,২৯৫ ভোট), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এস এম খলিলুর রহমান সরকার (১১৩ ভোট), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)’র কমলা কান্ত রায় (৬৮০ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা: আশা মনি (২৭৯ ভোট), বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বি.এস.পি)’র মো: আবুল কালাম আজাদ (৫০৩ ভোট), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)’র মো: মামুনুর রশিদ মামুন (৫৫২ ভোট) পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী যেসব প্রার্থী নির্ধারিত সংখ্যক ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের জমা দেওয়া টাকা বিধি মোতাবেক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category