দুদকের সমন ও আদালতে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপট মাথায় নিয়েই আবারও কুড়িগ্রাম টিটিসিতে যোগদান করেছেন অধ্যক্ষ আবু মো. সৈয়দ রেজাউল করিম। টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) চিফ ইন্সট্রাক্টর হিসেবে বদলি হন।
জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন-এর কুড়িগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক স্বাক্ষরিত এক পত্রে কুড়িগ্রাম টিটিসিতে টেন্ডার জালিয়াতির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
এদিকে, কুড়িগ্রাম টিটিসির নিয়োজিত ঠিকাদার হুমায়ুন কবীর প্রতারণা ও চেক জালিয়াতির অভিযোগে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর কোর্ট-এ একটি মামলা দায়ের করেন।
দুদক ও আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই বদলির ছয় মাসের মাথায় মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তিনি পুনরায় কুড়িগ্রাম টিটিসিতে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুড়িগ্রাম টিটিসির এক শিক্ষক বলেন, “অধ্যক্ষ রেজাউল করিম কুড়িগ্রাম টিটিসিতে বেপরোয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট চালিয়েছেন। সেই লোভ সামলাতে না পেরে ছয় মাসের মাথায় আবারও এখানে যোগদান করেছেন। দুদক ও আদালতে মামলা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি পুনরায় এই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব নিলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা তাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”
দুদকে অভিযোগকারী ঠিকাদার হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমার ভাগনেকে চাকরি এবং আমাকে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অধ্যক্ষ রেজাউল করিম টাকা হাতিয়ে নেন। আমি বিশ্বাস করি দুদক ও বিজ্ঞ আদালত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম টিটিসির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রাশেদুল ইসলাম নবাগত অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ত্রুটিপূর্ণ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি ট্রেডের প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার মালামাল ক্রয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারীর কাছ থেকে গ্রহণ করা ২০ লাখ টাকার জামানতের চেক ফেরত দিতে টালবাহানা করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই ঠিকাদার দুদক ও আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছ থেকে ৭–৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি টিটিসিতে কর্মরত একাধিক স্টাফের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ সুবিধা নিতে না পেরে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও উঠেছে। পরে শূন্যপদে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেন, একটি চক্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে পুনরায় তাকে কুড়িগ্রাম টিটিসিতে বহাল করেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।