• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
Headline
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চুনারুঘাটের এএসআই প্রত্যাহার পানছড়িতে স্যাম ইউনিটের চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর ভৈরবে বাড়ির আঙ্গিনা থেকে সিঙ্গাপুর প্রবাসীর হাত-পা বাঁ’ধা লা/শ উদ্ধার সারাদেশে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পানছড়িতে বিএনপির বিক্ষোভ অষ্টগ্রামে জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ, বিএনপি নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ অষ্টগ্রামে জলমহাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫ নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা জয়পুরহাটে ৭২ কেজির কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪ সামাজিক ক্ষমতায়নে ব্র্যাকের সচেতনতামূলক সভা ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার, যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড

নওগাঁয় ডিসি-এসপি পরিচয়ে চাঁ’দাবাজি, আঞ্চলিক প্রতারক নাইম গ্রে’প্তার

রাজেকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

নওগাঁ ও আশপাশের এলাকায় জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে নাইম হোসেন (২৮) নামে এক আঞ্চলিক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৩৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃত নাইম হোসেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নামা পোওতা এলাকার বাবু মিয়ার ছেলে। এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে বগুড়ার সান্তাহার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ মে এক ব্যক্তি নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিনি ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, তার বিক্রি করা ওষুধ সেবন করে এক শিশু মারা গেছে এবং মামলা এড়াতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। পরে আতঙ্কিত ব্যবসায়ী নগদের মাধ্যমে ২০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন।

একইভাবে গত ৩০ মে ওই প্রতারক নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে এবং মামলা থেকে রেহাই পেতে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। এভাবেই তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আইসিটি শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনও পুলিশ সুপার, কখনও ওসি, কখনও জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবার কখনও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “কেউ যদি পুলিশ বা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোনে টাকা দাবি করে, তাহলে বিষয়টি সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করবেন। প্রয়োজনে তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করুন এবং দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা পুলিশকে অবহিত করুন। প্রতারকদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।”

গ্রেপ্তারকৃত নাইমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category