ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নদী শাসনের নামে যারা জনগণের টাকা পেটে ঢুকিয়েছে, তাদের সেই টাকা টেনে বের করা হবে।” তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রথম ভোটটি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দিতে হবে। আমরা ক্ষমতার পালাবদলের রাজনীতি করতে চাই না, আমরা রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি করতে চাই।” তিনি কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকে শিল্পে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলে একটি কৃষি শিল্প বিপ্লব ঘটানো হবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কুড়িগ্রামে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা মাত্র দুটি সাবজেক্ট নিয়ে একটি অপূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নামে এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে উপহাস করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক অনলাইন ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “আমার এক্স হ্যান্ডেল (টুইটার) হ্যাক করে মায়েদের প্রতি যে অপমান করা হয়েছিল, তা নিয়ে একটি দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হৈচৈ করেছে। তবে আমাদের আইটি টিম শক্তভাবে কাজ করেছে। ফলে গত রাতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজন ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সত্য কখনো চাপা থাকে না—সূর্যের আলোর মতোই একসময় তা প্রকাশ পায়।”
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একদল ঘোষণা দিয়েছে তারা মায়েদের বোরকা, নিকাব ও হিজাব টেনে খুলে দেবে। তারা কি কোনো মায়ের সন্তান নয়? আমরা কথা দিচ্ছি—মেয়ে, মা ও বোনেরা ঘরে, রাস্তায় ও কর্মস্থলে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন।”
যুব সমাজের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা তোমাদের অপমানের বেকার ভাতা দিতে চাই না। প্রস্তুত হও—আগামী বাংলাদেশ তোমাদের নেতৃত্বেই চলবে। আমরা তোমাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। পিছনে তাকাতে চাই না, সামনে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতি, লুটপাট ও দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে হলে সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের ভোটই পারে সেই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে।”
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, রংপুর-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সরকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লা সিবগাহ, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, জেলা সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিনসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে বক্তারা বলেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা জনগণকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
জনসভায় কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। কুড়িগ্রাম–১ আসনে মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা, কুড়িগ্রাম–২ আসনে এনসিপির ড. আতিকুর রহমান (আতিক মুজাহিদ)-এর হাতে শাপলা কলি, কুড়িগ্রাম–৩ আসনে ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর হাতে দাঁড়িপাল্লা এবং
কুড়িগ্রাম–৪ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় জামায়াত আমির বলেন, কুড়িগ্রামের চারটি আসনেই ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করবে জোটের নেতাকর্মীরা। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কুড়িগ্রাম শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।