আসন্ন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ২নং ধরঞ্জী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম ও মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আবু নছর চৌধুরী ফরহাদ। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং গ্রাম্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে তিনি এবার ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন।
আবু নছর চৌধুরী ফরহাদ ১৯৯৭ সালে ৫নং রতনপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এরপর টানা প্রায় ১৯ বছর তিনি ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে একাধিকবার প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
জনপ্রতিনিধি থাকাকালে ইউনিয়নের ২৪টি মৌজায় গ্রাম্য শালিশ ও গ্রাম আদালতে নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন বলে স্থানীয়রা জানান। পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণ-সংস্কার, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা সঠিকভাবে বিতরণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন তিনি। মাদক, বাল্যবিবাহ, চুরি-ছিনতাইসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধেও সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ফরহাদ। ওই নির্বাচনে জেলার দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। ২০২২ সালের নির্বাচনে দলীয় সমর্থন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন।
এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনছেন।
সীমান্তঘেঁষা ধরঞ্জী ইউনিয়নে মাদক ও চোরাচালানের প্রবণতা, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের বিড়ম্বনা, অনুন্নত রাস্তা, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা এবং তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক সুযোগ না থাকাকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধরঞ্জী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান পদে নির্দিষ্ট দুই ব্যক্তির মধ্যেই মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে আসছে। অনেক ভোটারের ভাষ্য, ‘একবার এই চেয়ারম্যান, অন্যবার ওই চেয়ারম্যান’—এভাবেই প্রায় ৪০ বছর ধরে একই ধারার নেতৃত্ব দেখে আসছেন তারা। এবার নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের সেবায় গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চান অনেক ভোটার।
চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু নছর চৌধুরী ফরহাদ বলেন, আমি দীর্ঘ সময় ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও প্রত্যাশা খুব কাছ থেকে দেখেছি। এবারও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।
তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। পরিষদকে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলব। দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং যুব সমাজকে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে আমার অন্যতম অগ্রাধিকার।
ফরহাদ আরও বলেন, রাস্তা-ঘাট ও কালভার্ট উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান এবং ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে সমানভাবে উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করবেন তিনি। তরুণদের জন্য খেলার মাঠ ও ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, পাঠাগার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি।
নারীদের স্বাবলম্বী করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়াকেও নিজের অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন ফরহাদ।
তিনি বলেন, ৪০ বছর ধরে যারা পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছেন, তাদের প্রত্যাশাকে আমি সম্মান করি। আমাকে সুযোগ দিলে মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করে ইউনিয়নের উন্নয়নের একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করব। চেয়ারম্যানের চেয়ারকে ক্ষমতার জায়গা হিসেবে নয়, মানুষের সেবা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব হিসেবে দেখতে চাই।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় আবু নছর চৌধুরী ফরহাদ সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তার সমর্থকরা।