শিরোনাম :
বিরল ‘ক্যারোলি সিনড্রোমে’ আক্রান্ত নীলফামারীর সিরাতুলের বাঁচার আকুতি ভৈরবে নিখোঁজের চারদিন পর ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার ছিনতাই করতে ভৈরবে বাসা ভাড়া নেন নারী ছিনতাইকারী চক্র কুলিয়ারচরে ১৬ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক ভূরুঙ্গামারীতে ৭ বছরেও শেষ হয়নি ১৩৬ কোটি টাকার সেতুর কাজ চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি আটক ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পুলিশের অভিযানে মাদক সম্রাট হুমায়ুন আটক হলুদ-মরিচ গুড়ার ভিতরে মাদক, সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে আটক ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জোরপূর্বক জমি দখল ও চাঁ’দা’বা’জির বিরুদ্ধে মা’নববন্ধন ভৈরবে ৪ ফার্মেসীর মালিককে জরিমানা করেছে ম্যাজিট্রেট ও ঔষধ প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন

ভৈরবে ফলের দোকানের কর্মচারী হয়ে কোটিপতি, ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে সংবাদ সম্মেলন

ভৈরব ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি / ৫০ Time View
Update : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
0-3840x2160-0-0-{}-0-12#

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি ফলের দোকানের কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ এর কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে মালিক আবুল কালাম।

আজ (২ মার্চ) বেলা ১২টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবুল কালাম ও তার ছেলে বিজয় খন্দকার, ফল ব্যবসায়ী হাজী জাকির মিয়া ও মোস্তফা মিয়া।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফল ব্যবসায়ী জুনাইদ আহমেদ, মাহবুব মিয়া, খোকন মিয়া, মোশারফ মিয়া প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আবুল কালাম বলেন, ভৈরবের সিলেট বাসস্ট্যান্ড (ফল মার্কেট) এলাকার মেসার্স ভৈরব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। ২০০৯ সালে আমার প্রতিষ্ঠানে মো. আনোয়ার পারভেজকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয়৷ পরে ১০ বছর যাবত আমার প্রতিষ্ঠানের সকল আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
আমার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত ব্যবসার লেনদেনের স্বার্থে মো. আনোয়ার পারভেজ সর্বমোট ৩৮১ কোটি ৪৮ লক্ষ ১১ হাজার ৯২ টাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ব্যয় দেখান ৩৭৭ কোটি ১৭ লক্ষ ৬১ হাজার ৫৯৫ টাকা। হিসাব অনুযায়ী অবশিষ্ট ৪ কোটি ৩০ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৯৭ টাকার হিসাব দিতে পারেন নাই । এই টাকা আমার সাথে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে।

আবুল কালাম আরো বলেন, হিসাব গড় মিলের পর ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি আনোয়ার পারভেজের কাছে ৪ কোটি টাকার বিস্তারিত হিসাব চাইলে সে আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। সেই সাথে কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করতে থাকেন। এতে আমি নিশ্চিত হই আনোয়ার পারভেজ আমার বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে আমার টাকা উদ্ধার করতে আমি অভিযুক্তের বাড়িতে যায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আনোয়ার পারভেজ আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
আবুল কালাম আরো বলেন, আনোয়ার পারভেজ আমার সারা জীবনের ইনকাম করা টাকা আত্মসাৎ করে নিজে পাঁচ তলা বিল্ডিংয়ের বাড়িসহ একাধিক বাড়ির মালিক হয়েছে। এদিকে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। ব্যবসায়ীদের পাওনার টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। আমি টাকা ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে ফল ব্যবসায়ী হাজী জাকির মিয়া ও মোস্তফা মিয়া বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা আনোয়ার পারভেজকে আবুল কালামের মালিকানাধীন ফলের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে চিনি। সে নিজে কোটিপতি বনে গেছেন আর আবুল কালাম হয়ে গেছেন দেউলিয়া। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রমাণ হবে আনোয়ার পারভেজ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এ বিষয়ে অনোয়ার পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, আমি কালাম মিয়ার প্রতিষ্ঠানে পার্টনার ছিলাম। যদিও আমার কাছে পার্টনারশিপের কোন ডকুমেন্টস নাই। কালাম মিয়ার ছেলে ব্যবসার দায়িত্ব নেয়ার পর আমাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিতে আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছে। আমি ও আমার স্ত্রী ধার দেনা করে বিল্ডিং নির্মাণ করছি। কালাম মিয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি শুনেছি তবে এখনো এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category