বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীশ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদে স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় অপর একটি ব্যালটে জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্যায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুর মহানগরীর কালেক্টরেট ঈদগাঁ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা ৩১ দফা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তবে তার আগে আগামী ১২ তারিখ সকালে ফজরের পর সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে।” তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছরে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এমন ভোট হতে দেওয়া হবে না। এ জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ আজ নিজের আয়ে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বসবাস করতে চায়, কর্মসংস্থান চায়। কিন্তু সেই কর্মসংস্থান কোথায়? একমাত্র বিএনপিরই কর্মসংস্থান তৈরির অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা অতীতে জনগণ দেখেছে।”
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সহিংসতার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “শহিদ আবু সাঈদসহ সকল শহিদ ও আহতদের বিচার করতে হবে। পাশাপাশি গত ১৬ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে যারা মেগা দুর্নীতি করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে, তাদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, “পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করার সক্ষমতা একমাত্র বিএনপিরই রয়েছে।”
দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির র্যাংকিং উন্নতির দিকে যেতে শুরু করে। এতে প্রমাণ হয়, বিএনপিই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার সক্ষমতা রাখে।”
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “একটি দল আমাদের খারাপ বলছে। অথচ ২০০১ থেকে পাঁচ বছর তারা আমাদের সঙ্গেই ছিল। তখন যদি বিএনপি খারাপ হয়ে থাকে, তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করল কেন?” তিনি বলেন, “আমাদের শক্তি বাংলাদেশের জনগণ। শেষ সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।”
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পানি সমস্যার অন্যতম বড় উদাহরণ তিস্তা। রংপুর কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় এখানে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আগামী ১৩ তারিখ থেকেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
পরে তিনি রংপুর অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবীব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা এবং রংপুরের সব আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সামসুজ্জামান সামু।