নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুরুতেই গলদ দেখা দেয়ায় এই কর্মসূচির সফলতা ভেস্তে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। দুর্বল ও নিন্মমানের চারা গাছ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুনের বিরুদ্ধে। ফলে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের আশঙ্খা করছেন স্থানীয়রা।
সরকারি নির্দেশনায় কৃষকদের জন্য নির্ধারিত মানের চারা সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে উপজেলার এই কৃষি অফিস থেকে নিম্নমানের ও আকারে ছোট চারা বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৭জুলাই) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ৪১০জন কৃষকের মধ্যে ২হাজার ৫০টি বিভিন্ন জাতের ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হবে। প্রতিটি কৃষককে ৫টি করে একটি নির্দিষ্ট মাপের উন্নতমানের চারা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিতরণযোগ্য চারাগুলো সতেজ, সবল এবং নির্ধারিত উচ্চতার হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ইউনিয়নে বিতরণ করা গাছের উচ্চতা মাত্র দেড় থেকে দুই ফুট। আবার অনেক গাছ এক ফুট। এছাড়া বিতরণে জন্য আনা অনেক চারা গাছ দুর্বল ও নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলো টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং পুরো কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ইচ্ছেকৃতভাবে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নিম্নমানের চারা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে খোদ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং কৃষকদের উপকারে মানসম্মত ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সেখানে নিম্নমানের দুর্বল ও ছোট ছোট চারা গাছ বিতরণ করা হচ্ছে । যেগুলো সহজেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার কারণে সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কাঙ্ক্ষিত সুফল ব্যাহত হতে পারে।
জানার জন্য একাধিকবার ফোন দিলে রিসিভ না করে কেটে দেন রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন।
জানতে চাইলে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মনজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, কৃষকদের অভিযোগ দেওয়া কথা বললেন। তিনি বলেন, কোনো কৃষক অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এরকম ভাসা ভাসা অভিযোগে আমি কিছু করতে পারবোনা। নির্দিষ্ট অভিযোগ না দিলে আমরা এগুলো গ্র্যান্ট (গ্রহণ) করবোনা বলে কৃষি কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গাইলেন উপ-পরিচালক মোঃ মনজুর রহমান।