নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের মহেষপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে ৩য় বার্ষিক ইসলামী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিকেল থেকে আয়োজিত এ মাহফিলে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ ধর্মীয় আবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অত্র মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মাহফিলের শুভ সূচনা করে। পরে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ গজল, সুরা, হাতে লেখা ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। শিশু শিক্ষার্থীদের সাবলীল উপস্থাপনা ও নান্দনিক প্রদর্শনী উপস্থিত অতিথি ও মুসল্লিদের দৃষ্টি কাড়ে এবং পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
মাহফিলে মুসলিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে এবং রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরব প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ রফিক তাজ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জয়নগর মহেষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মাস্টার।
এছাড়াও বিশিষ্ট সমাজসেবক নুরুল ইসলাম, সমাজসেবক আলকাছ মিয়া, অত্র মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, অত্র মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ মাঈন উদ্দিন, বাবুল মিয়া, আব্দুর রউফ সহ গণ্যমান্য অনেকে।
মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা হাফেজ মাওলানা শাহ কবির আহমদ। বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা মহিউদ্দিন। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারি ও জনপ্রিয় ওয়ায়েজ হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদ তাসরিফ। এছাড়াও প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আল্লামা হযরত মাওলানা মুখতার হোসাইন রায়পুরী ও হযরত মাওলানা মুফতি ফজলে রাব্বি বাজিতপুরী।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক জীবন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে যুব সমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে ইসলামী শিক্ষার আলোকে আদর্শ সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার এবং ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইসলামী মাহফিল আয়োজন অব্যাহত থাকবে।