শিরোনাম :
কালীগঞ্জের তুমুলিয়ায় খ্রিষ্টান বাড়ীতে ডাকাতি দি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির মতবিনিময় গোপালগঞ্জের ৩টি আসনে ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনই হারিয়েছেন জামানত টেকনাফে আড়াই কোটি টাকার ইয়াবাসহ আটক ২ কুলিয়ারচরের ফেদাউল্লাহ্ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার চাচা শিক্ষা উদ্যোক্তা শেখ কবির হোসেনের জানাযা সম্পন্ন টিকটকে পরিচয় সন্তান রেখে উধাও দুই নারী,থানায় অভি’যোগ ড.রেজা কিবরিয়াকে অভিনন্দন জানালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সুজাত মিয়া একে এম ফজলুল হক মিলন কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় গাজীপুর-৫ জনসাধারণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গায় বো’মা বি’স্ফো’র’ণে দুজন নি/হ/ত আ’হ’ত ৩
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

সীমান্তে বাড়ছে আ’ত’ঙ্ক,পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি স্থ’ল’মাইনের চাপ প্লেট উ’দ্ধার

জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার প্রতিনিধি / ৮২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলার টেকনাফ হোয়াইক্যং মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় থেকে ১০টি স্থল মাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
প্রাথমিকভাবে এসব অংশে কোনও বিস্ফোরক পাওয়া না গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় এসব চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়েছে। সীমান্তের আরও কিছু জায়গায় স্থল মাইন পুঁতে রাখে হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
তাদের অভিযোগ, আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন এবং ছোড়া গুলিতে সীমান্তে বসবাসকারীরা হতাহত হচ্ছে। এতে আতঙ্কের দিন পার করছেন সীমান্তের মানুষ।
৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে স্থল মাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ পাওয়া গেছে। এগুলোতে আপাতত কোনও বিস্ফোরক নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মূলত স্থল মাইনের অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট-যা মাটির ওপরে বসানো থাকে এবং চাপ পড়লে মাইন সক্রিয় হয়। সাধারণত একটি স্থল মাইনে কেসিং, বিস্ফোরক অংশ, বুস্টার চার্জ, ফায়ারিং মেকানিজম ও ডেটোনেটর থাকে। তবে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোতে কেবল চাপ প্লেট ও কিছু বাহ্যিক অংশ পাওয়া গেছে।
এদিকে সীমান্তে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা টেকনাফ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে স্থল মাইন, আইইডি ও এপারে এসে পড়া গুলিতে জেলে, কৃষক ও শিশুসহ নিরীহ মানুষ হতাহত হচ্ছেন।
গত ১২ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন একই এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুফাইজা আফনান গুলিবিদ্ধ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, আমরা মাঠে যেতে পারি না, সীমান্তে যেতেও ভয় লাগে। কখন যে মাইনে পা পড়ে যায়, সেই চিন্তায় সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি। সন্তানদের ঘর থেকে বের হতে দিতেও ভয় লাগে।
নাফ নদের এক জেলে হাবিব উল্লাহ জানান, নদ আর সীমান্তই আমাদের জীবিকা। কিন্তু এখন নৌকা নামালেই ভয়। ওপার থেকে গুলি আসে, আবার মাইনের আতঙ্ক এইভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে?
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ কার্যত মৃত্যু ভয় নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন। শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও পরিবারগুলো শঙ্কায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে টেকনাফের এই জনপদে আতঙ্ক আরও গভীর হবে।
বিজিবি বলছে, সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না।
জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। এরই প্রভাবে সীমান্তের এপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category