জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন অধস্তন আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন হবিগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে কর্মচারীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে নতুন কোনো জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুধু বেতন বৃদ্ধির দাবি নয়, বরং এটি কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা জানান, জাতীয় পে-কমিশন গত ২১ জানুয়ারি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ দাখিল করেছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই সুপারিশের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ফাহিমা খানম, মাসুক আহমেদ, কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ গোলাম হাদী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুখলেছুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক রায়হান আহমেদ আকাশ, সহ অর্থ সম্পাদক মঈনউদ্দীন সোহেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ আল আমিন ও বিপ্লব দাশ, উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজর দাস, অফিস সহকারী আব্দুল ওয়াদুদ, নুরুল হোসেন ও রজব আলী প্রমুখ।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
পরে কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবির দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।