• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
Headline
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চুনারুঘাটের এএসআই প্রত্যাহার পানছড়িতে স্যাম ইউনিটের চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর ভৈরবে বাড়ির আঙ্গিনা থেকে সিঙ্গাপুর প্রবাসীর হাত-পা বাঁ’ধা লা/শ উদ্ধার সারাদেশে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পানছড়িতে বিএনপির বিক্ষোভ অষ্টগ্রামে জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ, বিএনপি নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ অষ্টগ্রামে জলমহাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫ নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা জয়পুরহাটে ৭২ কেজির কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪ সামাজিক ক্ষমতায়নে ব্র্যাকের সচেতনতামূলক সভা ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার, যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড

৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব

তরিকুল মোল্লা, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাগেরহাট পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। ২০২১ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর কয়েক মাস পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ করা হলেও পরে পুরো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
প্রকল্পের আওতায় ভৈরব নদীর পানি পরিশোধন করে ঐতিহ্যবাহী পচা দিঘিতে সংরক্ষণ এবং পরে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে পৌরবাসীর ঘরে ঘরে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রায় চার বছর ধরে প্রকল্পটি বন্ধ থাকায় এর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট ও মরিচা ধরছে। কিছু সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহারের কথা থাকা পচা দিঘি দীর্ঘদিন ধরে ইজারা দিয়ে মাছ চাষ ও মাছ শিকারে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দুই দিনব্যাপী দিঘিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ১০৮টি ঘাটে মাছ ধরার আয়োজন করা হয়, প্রতিটি ঘাটের জন্য নেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা করে। আয়োজকদের দাবি, দুই দিনে শত মণের বেশি মাছ শিকার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ ধরার সময় বিভিন্ন ধরনের টোপ ও রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহারে দিঘির পানি দূষিত হচ্ছে। মাছ শিকারের পর পানিতে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং আশপাশের বাসিন্দাদের রান্না ও দৈনন্দিন কাজে পানি ব্যবহারেও সমস্যা হচ্ছে। দিঘির পানিতে পলিথিন, খাবারের প্যাকেট, বোতল ও বিভিন্ন বর্জ্যও ভাসতে দেখা গেছে।
তবে দিঘির ইজারাদার মো. আলমগীর হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাছের জন্য ক্ষতিকর কোনো সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না; প্রাকৃতিক উপাদান ও উপকারী খাবারই ব্যবহার করা হয়।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট দূর করতে প্রকল্পটি পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। পচা দিঘির পানি ট্রিটমেন্ট করে ব্যবহার করা যায় কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে দিঘিটির লিজের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত করে পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পটি সচল করার পাশাপাশি পচা দিঘিকে পানি সরবরাহের মূল জলাধার হিসেবে সংরক্ষণ করা হোক। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকটও দূর হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category