কখনও কখনও ছোট্ট একটি অভিমানও শিশু মন পাহাড়সম ভার হয়ে ওঠে। সেই অভিমানের ঢেউয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় চেনা ঘর, চেনা মুখ আর নিরাপদ আশ্রয় থেকে অনেক দূরে। তেমনই এক অভিমানের গল্পের রানী হয়ে রাজধানী থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পর্যন্ত ট্রেনে চলে আসে ১২ বছরের কিশোরী জান্নাতুল ফেরদৌস (১২)।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে পরিবারের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করে রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ।
জানা যায়, ভৈরবে রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে খোঁজে পাওয়া কিশোরী ঢাকার কাওরানবাজার পিয়ারাবাগ এলাকার আলাল মিয়া ও জাহেদা বেগম দম্পতির মেয়ে। তারা পিয়ারাবাগ এলাকার নিরিবিলি গলির তালেব মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। শিশুটির মা কাওরানবাজারের কারণ বাজার কামারপট্টি এলাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত শুক্রবার ৬ মার্চ বড় ভাইয়ের সাথে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে (শনিবার ৭ মার্চ )ভৈরব স্টেশনে চলে আসে কিশোরী জান্নাতুল ফেরদৌস। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ নিকট হস্তান্তর করা হয় কিশোরীকে। রেলওয়ে পুলিশ মেয়েটির পরিবারের সন্ধান করে আজ ৮ মার্চ দুপুরে কিশোরীর মা জাহেদা বেগমের কাছে হস্তান্তর করে।
কিশোরী জান্নাতুল ফেরদৌস এর সাথে কথা বলে জানা যায়, বড় ভাইয়ের সঙ্গে সামান্য ঝগড়ার পর মায়ের কাছে বিচার দিয়েও বিচার পাইনি। এজন্য অভিমান করে ৬ মার্চ ঘর ছেড়ে বের হয়ে যায় জান্নাতুল। সেই অভিমানেই ৭ মার্চ ঢাকা তেজগাঁও স্টেশন থেকে একটি লোকাল ট্রেনে চড়ে একাই চলে আসে কিশোরগঞ্জের ভৈরব জংশনে।
কিশোরীর মা জাহেদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে ঈদের মার্কেট করে দেয়ার কথা বলেছিল। আমি বলেছি পরে কিনে দিবো। হঠাৎ কি হয়েছে বুঝতে পারিনি। বড় ছেলে নাকি তাকে মেরেছিল। আমি ভাবতে পারিনি আমার মেয়ে অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসবে। দুইদিন যাবত মেয়েকে খোঁজে আজ ভৈরবে পেয়েছি। আমি রেলওয়ে পুলিশে প্রতি কৃতজ্ঞ।
ভৈরব রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে কিশোরী মেয়েটিকে পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানার সাথে যোগাযোগ করে কিশোরী জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি। আজ দুপুরে জান্নাতুল ফেরদৌসকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।