কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত বেশি সেচ চার্জ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক বিএডিসি (BADC) সেচ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে।
বোরো ধানের ভরা মৌসুমে উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের পাওন মুজাই প্রায় ৩শত একর জমি রয়েছে। সেচের গুরত্বপূর্ণ সময়ে জমিতে চাহিদা মতো পানি না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো প্রান্তিক কৃষক। একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে সেচ বন্ধসহ নানা হুমকির মুখে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্থানীয় কৃষকদের। সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার মোঃ আবু তাহের ভূইয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
সরেজমিনে বুধবার(১১মার্চ) গিয়ে দেখা যায়,অষ্টগ্রাম সেচ ইউনিট কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রতি একর জমির জন্য সেচ চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫শত টাকা। কিন্তু দেওঘর পাওন মুজাই প্রকল্পের কৃষকদের অভিযোগ, ম্যানেজার আবু তাহের ভূইয়া তাদের কাছে প্রতি একরে ৭ হাজার টাকা দাবি করছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ অঞ্জন ভূঁইয়া বলেন:
সরকার রেট দিছে ৪হাজার ৫শত টাকা, কিন্তু আবু তাহের ভূইয়া আমাদের কাছে চাচ্ছে ৭হাজার টাকা। আমরা প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, বেশি কথা বললে ৮হাজার টাকা দিতে হবে। আমরা গরিব কৃষক এত টাকা কি ভাবে দেব।
এছাড়াও অন্যান্য কৃষকরাও একই অভিযোগ করে বলেন, ন্যায্য মূল্যে টাকা দিতে চাইলেও ম্যানেজার তা গ্রহণ করছেন না। উল্টো বেশি টাকা না দিলে পরিস্থিতি খারাপ হবে বলে হুমকি দিচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে আমরা কৃষকরা অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিলভিয়া স্নিগ্ধার কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
অভিযুক্ত সেচ ম্যানেজার মোঃ আবু তাহের ভূঁইয়ার বলেন, পারিবারিক ও রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে তাকে সামাজিক ভাবে হেয় করতে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমি সরকারি চার্ট অনুযায়ী ৪হাজার ৫শত টাকাই জানি এবং তার বাইরে কোনো টাকা দাবি করিনি। বরং আমার ন্যায্য পাওনা টাকা কৃষকরা দিচ্ছে না। আমি বিএনপি করি আমার দলের কাছে ছোট করার জন্য একটি পক্ষ এই চক্রান্ত করছে আমি এই বিষয়েই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই
অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা জানান, আমরা কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বোরো মৌসুমে ফসলের মাঠে সেচের গুরত্বপূর্ণ সময়ে জমিতে পানির চরম প্রয়োজন, পানির অভাবে জমির মাঠি শুকিয়ে গেছে, ধানের গাছে লালচে ভাব ধরছে। এভাবে চললে পথে বসতে হবে কৃষকরা। সরকারি নিয়ম মেনে ন্যায্য মূল্যে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসী।