মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে শরীয়তপুর গোসাইরহাট বাজার থেকে হঠাৎ লা-পাতলা এলপিজি গ্যাস। সরকারিভাবে ঘোষণা ছাড়াই দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে খুচরা পর্যায়ের এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে;২০০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বৃদ্ধি করেও গ্যাসের তারল্য সংকট দেখাচ্ছে বাজারে আর এতে করে ভোক্তারা পড়েছে চরম দুর্বিপাকে।
ভোক্তাদের অভিযোগ বাজার পর্যায়ে সরকারিভাবে নতুন করে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়েনি। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে গোসাইরহাটে মিলছেনা নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য। দোকানে গ্যাস চাইলে বলে নাই যদিও পাওয়া যায় তাও বেশি দামে কিনতে হবে এরকম পরিস্থিতি চলছে এখন।
বরং বাজারে এক এক দোকানে এক এক রকম দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস। গত তিন দিনের ব্যবধানে সিলিন্ডার প্রতি দুইশ টাকা বেড়েছে।
গত ২ ডিসেম্বর সর্বশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এজন্য হঠাৎ করে গত তিনদিন ধরে গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। তিন দিন আগে বসুন্ধরা, ওমেরা ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করেছি ১২৫০ টাকা। তিন দিনের ব্যবধানে ১৫৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য গ্যাস যা বিক্রি হচ্ছিল ১১৫০ টাকা তা এখন ১৩৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়। দাশের জঙ্গল বাজার আরিফ ট্রেডাস, কাউছার এন্টারপ্রাইজ, ঢালী এন্টারপ্রাইজে ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাস ১৪৫০ থেকে ১৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বেসরকারি চাকুরীজীবী মনিরউজ্জামান বলেন, সীমিত আয়ে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তারপর যদি এভাবে হঠাৎ করে ইচ্ছে খুশি মত ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি করেন তাহলে আমাদের ধার দেনা করা ছাড়া উপায় থাকে না। ভ্যান চালক জয়নাল আবেদিন বলেন, তীব্র শীতে আমাদের ভ্যান গাড়িতে যাত্রি ঠিকমতো হচ্ছে না। তারপরে জ্বালানি সহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি হলে চরম বিপদে পড়তে হয়।
উপজেলার দাশের জঙ্গল বাজারের সিরাজউদ্দিন কওমী মাদ্রাসার মোড়ের ব্যবসায়ী আবুল কালাম ও কিবরিয়া বলেন, “নতুন বছরে গ্যাসের দাম বাড়বে, এমন খবর জেনে বড় বড় ব্যবসায়ীরা মজুদ রেখেছে। গত দু’দিন ধরে বাজারের রয়েছে গ্যাসের প্রবল সংকট। কোনো কেম্পানীর গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কৃত্রিম সংকটের কারণেই মূলত গ্যাসের দাম বেড়েছে।
আরিফ ট্রেডাসের আরিফ জানান, নতুন বছরে গ্যাসের দাম বাড়বে এমন খবরে আমাদের গ্যাস দিচ্ছেন না।আমার দোকানও কোনো গ্যাস নেই।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুশরাত আরা খানম বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলপিজি গ্যাস ডিলারদের সাথে কথা বলবো।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার শরীয়তপুর জেলা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, ইউএনও সবার জানান আমরা দেখতেছি।