কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্যের বাড়িতে অনশন করছেন আসমা আক্তার(২৯) নামে এক যুবতী। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী আসমা, চাঁদপুর জেলার মতলব উওর উপজেলা দক্ষিন ফতেপুর গ্রামের খানের মেয়ে। অভিযুক্ত সেনাসদস্য জাহাঙ্গীর আলম (২২) ভররুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের শাহ আলীর ছেলে।
স্হানীয় সূত্রে জানা গেছে,প্রায় তিন বছর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি পান জাহাঙ্গীর আলম। চাকরিরত অবস্থায় মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে আসমার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একাধিকবার দেখা-সাক্ষাতের পর তারা গোপনে বিয়ে করেব বলে দাবি আসমার।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে আসমা তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে তোলার দাবি জানান অভিযোগ রয়েছে। এসময় জাহাঙ্গীর তার কাছে ১০লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জাহাঙ্গীর বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
আসমা ঠিকানা সংগ্রহ করে গত ( ২২ ফেব্রুয়ারি) স্বামীর গ্রামের বাড়ি ভূরুঙ্গামারীতে এসে ওঠেন। তাকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হলেও তিন দিন পর জাহাঙ্গীরের খালা ও পরিবারের লোকজন মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে জানান।
গুরুতর অবস্থায় স্হানীয়রা গত (২৬ ফেব্রুয়ারি) তাকে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। চিকিৎসা শেষে গত (০৩ মার্চ) ভূরুঙ্গামারী থানায় নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর পুলিশ একটি দল অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরের বাবা শাহ আলী ও মা জাহানারা বেগমকে গ্রেফতার করে। বুধবার(০৪ মার্চ) দুপুরে দুজনকে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী আসমা আক্তার বলেন, আমি পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করে স্বামীর স্বীকৃতির আশায় এখানে এসেছি। তারা প্রথমে আমাকে মেনে নেয়। কিন্তু তিনদিন পর আমাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমার গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন, আংটি ও পায়ে থাকা নূপুর খুলে নেয় তারা। আমার মোবাইলে থাকা আমাদের দুজনের সব তথ্য ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেয়। আমি স্বামূর স্বকৃতি চাই ও সুষ্ঠ বিচার চাই।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আজিম উদ্দিন মামলাট বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এঘটনায় সেনাসদস্য জাহাঙ্গীর মা ও বাবা’কে আটক করে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই সেনা সদস্য চাকুরীতে কর্মরত থাকায় তাকে আটক করা যায়নি। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।