ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৪ লেন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের সঠিক মূল্য নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন করেন। কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার ও ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব বাসস্ট্যান্ড দুর্জয় মোড় এলাকায় মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থান নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে না পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম আজিমুল হকের কাছে জেলা প্রশাসক বরাবর লেখা স্মারকলিপি জমা দেন।
মানববন্ধনে সমাজ সেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুর রউফ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন মামুন, জনতার দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব নুরুল কাদের সোহেল, পৌর কমলপুর ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রকি ও ব্যবসায়ী মোকারম হোসেন মুকুলসহ স্থানীয় জমির মালিক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী বন্দরনগরী, প্রসিদ্ধ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও প্রথম শ্রেণির ভৈরব পৌরসভার এলাকা হচ্ছে ভৈরবপুর, কমলপুর, লক্ষ্মীপুর ও জগন্নাথপুর এলাকা। এসব মৌজার স্থায়ী বাসিন্দারা অধিগ্রহণের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক। ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ ভূমি অধিগ্রহণ শাখার জারিকৃত নোটিশের মাধ্যমে অধিগ্রহণকৃত ভূমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ বাবদ নির্ধারিত মূল্য সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। ক্ষতিপূরণ বাবদ নির্ধারিত মূল্য বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। ক্ষতিপূরণ বাবদ বর্তমান নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা হলে ভূমি ও অবকাঠামোর মালিকগণসহ ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা দীর্ঘ মেয়াদে চরম ক্ষতি ও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
বক্তারা আরো বলেন, অধিগ্রহণকৃত ভূমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে বর্তমান বাজার মূল্যেকে বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করতে হবে। ব্যবসায়ী ও কর্মচারীবৃন্দের সঠিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে হবে। ভূমি ও অবকাঠামোর প্রকৃত মালিকের নাম ফিল্ডবুকে লিপিবদ্ধ করে সঠিকভাবে লাইন দাগ নির্ধারণ করতে হবে। এসময় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পানের দোকান ও কোটি টাকার পুঁজিতে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীদের এক করা হয়েছে। বাস্তবে যেখানে আকাশ আর পাতাল তফাৎ রয়েছে। পান ও চায়ের দোকানদারের পুঁজি লাগে না। সেখানে একটি বড় দোকানের পুঁজি এবং ভাড়া কোটি টাকার উপরে। এসব জিনিস আমলে নিয়ে যথাপোযুক্ত বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও ব্যবসায়ীরা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাবেন।
এ বিষয়ে জমির মালিক মোকারম হোসেন ও কামরুজ্জামান রকি বলেন, ভৈরব শহরের সব জায়গার জমির মূল্য বেশি। তবে শহরের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে জমির দাম অনেক। সরকার আমাদের জমি অধিগ্রহণে নিয়ে জমির অর্ধেক দামও দিচ্ছে না। জমির মূল্য ১ কোটি হলে দিচ্ছে ৫০ লক্ষ। জমির মূল্য ৬০ লক্ষ হলে সরকার দিচ্ছে ৬ লক্ষ। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের জমির মূল্য পূর্ণ বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি। দাবি পূরণ না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।
এ দিকে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপিতে ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প আওতায় সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট তামাবিল মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয়পার্শ্বে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে প্রদত্ত ক্ষতিপূরণ বর্তমান বাজার মূল্যকে প্রাধান্য দিয়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করার বিষয় এনে আবেদন দেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি ও অবকাঠামো মালিক, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।