কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ভুয়া সনদ ব্যবহার করে দলিল লেখক হিসেবে নিবন্ধন গ্রহণ এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুরুঙ্গামারী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত কয়েকজন দলিল লেখক ভুয়া বা অবৈধ সনদ ব্যবহার করে এবং কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অথবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে লাইসেন্স গ্রহণ করেছেন, যা প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— মোঃ বদিউজ্জামান (সনদ নং ১০৮/১২), শ্রী নবীন চন্দ্র বর্মন (সনদ নং ০৫/০৫), মোঃ রবিউল আলম (সনদ নং ১১৬/১৩), মোঃ আব্দুল গনি (সনদ নং ১৫৯/১৯) এবং মোঃ আবুল কালাম আজাদ (সনদ নং ১৬২/১৯)।
এছাড়া এমপিওভুক্ত ও চাকরিজীবী অবস্থায় দলিল লেখক হিসেবে লাইসেন্স গ্রহণের অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—মোঃ মাহমুদুল হাসান (সনদ নং ১২৩/১৩), যিনি ভুরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের প্রভাষক; ভোলানাথ দত্ত (সনদ নং ১২৪/১৩), ভুরুঙ্গামারী কিশলয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক; এবং মোঃ মোজাম্মেল হক (সনদ নং ৭৫/৩৮), যিনি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত হলেও বর্তমানে সরকারি সম্মানি ভাতা উত্তোলন করছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাকরিজীবী ও এমপিওভুক্ত অবস্থায় দলিল লেখক হিসেবে সনদ গ্রহণ আইনবিরোধী এবং সরকারি বিধি-বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
অভিযোগকারী মোঃ জাকির হোসেন জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ভুয়া ও অবৈধ সনদ যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং অবৈধভাবে অর্জিত সুবিধা বাতিলের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসন, নিবন্ধন অধিদপ্তর, শিক্ষা অধিদপ্তর, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান অভিযোগটি পেয়েছি এবং জেলা রেজিস্ট্রারের নিকট পাঠানো হয়েছে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার রুহুল কুদ্দুস বলেন অভিযোগ বিষয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।