শিরোনাম :
কুলিয়ারচরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচীর উদ্বোধন  স্কুলে মোবাইল নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে ক্লাস রুমে সহপাঠিকে ছুরিকাঘাতে আহত স্বাস্থ্য দিবস পালিত হলেও বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, সংকট জনবল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবি’র অভিযানে হেরোইন সহ নারী গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকৃতির তা’ণ্ডব শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির হবিগঞ্জে সালিশ বৈঠকেই সংঘর্ষ নিহত ১,আহত ৩০ ‎ ‎ ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ শরীয়তপুরে পেট্রোল বিক্রির অভিযোগা, নেতার দোকানে তালা ভৈরবে চোর সন্দেহে মারধরের ঘটনায় সংঘর্ষে আহত ২০ ভৈরবে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ মাদককারবারি আ’টক
বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্য দিবস পালিত হলেও বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, সংকট জনবল

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের একমাত্র প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হলেও দীর্ঘদিনের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে সেবার মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নানা সীমাবদ্ধতায় হাসপাতালটি নিজেই যেন ‘দুরারোগ্য’ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

প্রয়োজন ১৭৮ চিকিৎসক, কর্মরত মাত্র ২৩:
হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৮ সালে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। বর্তমানে এখানে ১৭৮ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে সিনিয়র কনসালটেন্টের অভাব প্রকট।

মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও কার্ডিওলজি বিভাগে নেই কোনো সিনিয়র কনসালটেন্ট। জুনিয়র কনসালটেন্টের অর্ধেক পদ শূন্য। এছাড়া মেডিক্যাল অফিসার, ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার, রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারের পদও শূন্য রয়েছে।

চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত সেবা:
চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন ৫০০-র বেশি রোগী ভর্তি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়। জরুরি বিভাগে অনেক সময় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগও উঠছে।

চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা:
দুপুরের পর ভর্তি হওয়া রোগীদের তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে রোগীদের পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

নেই আইসিইউ ও এনআইসিইউ সুবিধা:
হাসপাতালের নতুন ৮ তলা ভবন নির্মাণ করা হলেও সেখানে আইসিইউ বা এনআইসিইউ সুবিধা চালু করা হয়নি। ফলে গুরুতর রোগীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এতে পথে অনেক রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

অকেজো চিকিৎসা সরঞ্জাম:
হাসপাতালে সিটিস্ক্যান ও এমআরআই মেশিন নেই। ইকোকার্ডিওগ্রাম, এন্ডস্কপি ও ল্যাপরোস্কপি মেশিন থাকলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। আধুনিক অটোক্লেভ মেশিন না থাকায় অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করতেও সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহকৃত কিছু মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্র স্টোরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা রোগীদের সেবা থেকে বঞ্চিত করছে।

জনবল সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি:
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর তীব্র সংকট রয়েছে। আয়া, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার ও নিরাপত্তাকর্মীর অভাবে রোগীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন নিয়োগও বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত দুর্বল। ওয়ার্ডগোলোর বাথরুমের বেহাল অবস্থা, নাই গোসল করার ব্যবস্থা। চিকিৎসা বর্জ্য পাশের পুকুরপাড়ে ফেলা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, “চিকিৎসকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। সম্প্রতি চারজন চিকিৎসক যোগ দিলেও চাহিদা পূরণ হয়নি। সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category