টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বোনের বসতঘর পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের টিকরী গ্রামে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, টিকরী গ্রামের মৃত মজিদ সরকার জীবিত থাকাবস্থায় ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সে সময় তার ছেলে ও ছেলের বউ তার কোনো দেখভাল না করায় মেয়ে নিপা তার দায় দায়িত্ব পালন করলে বাবা মজিদ সরকার মৃত্যুর আগে মেয়েকে ডেকে নিয়ে তার দেখভাল করার কারণে ১০০ শতাংশ জমি দলিল করে দেন। এবং সেই জমিতে মেয়েকে বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর থেকেই জমি ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে নিপা ও তার স্বামীর ওপর ভাই হুমায়ুন কবির স্বপন, আবাদুল কাইয়ুম ও ভাবী বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতন চালিয়ে আসিতেছিল। এবং তারই ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মধুপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরি করার তিন দিনের মধ্যেই ভাবী ও ভাইদ্বয় মিলে ১০ সেপ্টেম্বর নিপা ও তার স্বামী আবুল হাসান বাড়িতে না থাকার সুযোগে রাতের আঁধারে আগুন লাগিয়ে বাড়ি পুড়িয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন নিপা বেগম।
নিপা আরো জানান, ভাইদের অত্যাচারে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে সকালে বাবার ভিটায় এসে সারা দিন থাকতেন এবং রাতে মধুপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অবস্থান করতেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ খবর পান তার বসতবাড়িতে আগুন লেগেছে । তিনি দ্রুত এসে দেখেন ঘরে থাকা সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
অশ্রুসিক্ত চোখে নিপা বলেন, “আমার ২০ বছরের জমানো সব কিছু আমার ভাইয়েরা শেষ করে দিয়েছে । এখন আমি পুরোপুরি নিঃস্ব। পরনের কাপড়টা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি আমার স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।
এ ঘটনায় সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নিপা ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভাই, হুমায়ুন কবির স্বপন বলেন,আমরা ভাই হয়ে বোনের ঘরে আগুন লাগাতে পারেনি না। আমাদের উপর দেয়া অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।আমার বোনের সাথে কিছু কুচক্রী মহল জড়িত হয়ে আমাদেরকে হেয় করতে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। যা সম্পূর্ণই মিথ্যা।