ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে বেলকুচি থানা চত্বরে( ৫ জুলাই) রবিবার সকাল ১০ ঘটিকায় সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুধীজন,গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমিরুল ইসলাম খান আলিম,মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য,সিরাজগঞ্জ -৫। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম (বার),পুলিশ সুপার,সিরাজগঞ্জ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও পবিত্র গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলকুচি থানার অফিসার (ইনচার্জ)জনাব মো. ইমাম জাফর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিরুল ইসলাম খান আলিম (এমপি) মহোদয় বলেন, বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। অতীতেও দলটি সাম্প্রদায়িকতাকে সমর্থন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্বা ( এআই) এর সাহায্যে যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় তাদেরকেও তিনি সাবধান করেন।
সমাবেশে বেলকুচি উপজেলার সাবেক সদস্য সচিব জনাব বনি আমিন সহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। ইসলামী বক্তারা কোরআন-হাদিসের আলোকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে হিন্দুধর্মসহ অন্যান্য ধর্মের নেতারা নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থের আলোকে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধের শিক্ষা তুলে ধরে সম্প্রীতির বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী চক্র নানা ধরনের গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। তবে জনগণের ঐক্য, সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মাধ্যমে এসব অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি সকলকে গুজবে কান না দিয়ে সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য সম্প্রীতি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বেলকুচি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় থানা চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালিতে বিভিন্ন ধর্মের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।