বাগেরহাটে আবুল কালাম চাকলাদার (৫৫) নামের এক বিএনপি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি নিজেই আত্মহত্যা করেছে এনিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি এলাকাবাসীর।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আবুল কালাম চাকলাদার (৫৫) সদর উপজেলার রনবিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং হাতেম আলী চাকলাদারের ছেলে। তিনি ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতা ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে তিনি সদর উপজেলা বিএনপি’র বিভিন্ন কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার সন্তানদের নিয়ে শহরে বসবাস করছিলেন। এ সময় আবুল কালাম চাকলাদার নিজ বাড়িতে একাই থাকতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে তার স্বজন ইয়াসমিন বেগম খাবার দিতে বাড়িতে যান। প্রথমে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান, জানালার সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় খাটে বসে আছেন আবুল কালাম চাকলাদার। কাছে গিয়ে তিনি তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন।
ইয়াসমিন বেগমের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে তার মনে হচ্ছে না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল বলেন, আবুল কালাম চাকলাদার ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য ছিলেন। যতদূর জানি, গত কয়েক মাস ধরে তিনি পারিবারিক অশান্তির মধ্যে ছিলেন। সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তার মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাই।
বাগেরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আরেফিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।