বড়লেখায় দানপত্র দলিলমূলে পাওয়া জমি ও বাড়িতে প্রবেশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বাধা, ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিতল বাবু নামে এক বাঁশের ফার্নিচার ব্যবসায়ী। এ ছাড়া তাঁর কাছ থেকে বাকিতে নেওয়া ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার বাঁশের ফার্নিচারের মূল্য প্রায় চার বছরেও পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮ টায় মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা ও ন্যায়বিচার দাবি করেন শিতল বাবু। তিনি বড়লেখা উপজেলার ৭ নম্বর তালিমপুর ইউনিয়নের আখালীমুরা এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিতল বাবু বলেন, বড়লেখার মুড়িরগুল এলাকার মৃত জফুর আলীর ছেলে সায়ফুর রহমান ও তার সংঙ্গীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৩১২ নম্বর দানপত্র দলিলের মাধ্যমে ভগ্নিপুত্র চয়ন ধরের কাছ থেকে তিনি জমি ও বাড়ির মালিকানা পান। পরে নিজের নামে জমির নামজারি করেন বলেও জানান তিনি।
শিতল বাবুর অভিযোগ, গত ১৭ এপ্রিল দুপুরে ওই জমিতে আবর্জনা ও জঙ্গল পরিষ্কার করতে গেলে সায়ফুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং জমি ও বাড়ি ভোগদখল ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হলে চার লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করা হয়। টাকা না দিলে জমিতে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে প্রাণনাশ ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। জমিটি সায়ফুর রহমানের বসতবাড়ির কাছে হওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন শিতল বাবু।
এদিকে, ২০২২ সালে বড়লেখার একটি অডিটোরিয়ামের ডেকোরেশনের কাজের জন্য সায়ফুর রহমান তাঁর কাছ থেকে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার বাঁশের ফার্নিচার বাকিতে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন শিতল বাবু। জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিতল বাবু অভিযোগ গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, জমিতে প্রবেশ ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং পাওনা টাকা আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সায়ফুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।