কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওর এলাকার কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। তাঁদের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন বোরো ধানের খেতে দুঃস্বপ্ন হয়ে এসেছে ‘নেক ব্লাস্ট’। এ রোগে ধানের শিষ বের হওয়ার পর শুকিয়ে চিটা হয়ে যায়। আগাম জাতের ধান বিআর–২৮ ধানের খেতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেখা যাচ্ছে এ রোগ। ধানের ভয়াল এ রোগ দমনে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সঠিক সময়ে পরামর্শ পাননি বলেও অভিযোগ কৃষকদের।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা যায়, হাওরে এখন মাঠে মাঠে বাতাসের সঙ্গে দুলছে বোরো ধানের শিষ, দুলছে চাষির স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে নেক ব্লাস্ট। এ রোগে সংক্রমিত জমির ধান কোনোভাবেই রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। এক সপ্তাহের মধ্যে বিআর–২৮ -২৯ধানের জমিতে ছড়িয়েছে নেক ব্লাস্ট রোগ। এ রোগ সংক্রমণের কারণে প্রথমে ধানগাছের শিষ ভেঙে যায়, ধান সম্পূর্ণ শুকিয়ে চিটা হয়ে যায়, শুকিয়ে যায় ধানগাছের পাতাও। উপজেলার কয়েক শ কৃষক এ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তারা যদি তাঁদের সময়মতো পরামর্শ দিতেন, তাহলে হয়তো তাঁরা এমন ক্ষতির সম্মুখীন হতেন না।
কৃষক পুলি বেগম বলেন, তিনি এবার ১৪ একর জমিতে বিআর–২৯ জাতের ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে প্রায় ৬ একর জমির ধান নেক ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণে শুকিয়ে গেছে। এ নিয়ে তিনি দিশাহারা। বাকি ধান নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
কৃষক মজুর রহমান রহমান বলেন, ১২ একর জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। তবে গত এক সপ্তাহের মধ্যে নেক ব্লাস্টে প্রায় ৫ একের জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন এনজিও সমিতি থেকে লোন তুলে জমিতে চাষাবাদ করেছি ফসল নষ্ট হওয়াতে আমরা এখন দিশাহারা। কি ভাবে তাদের লোন পরিশোধ করব।
অষ্টগ্রাম উপজেলার কৃষি অফিসার অভিজিৎ সরকার বলেন, যে সকল কৃষকের ধানের জমি ব্লাস্ট রোগে নষ্ট হয়েছে আমরা উনাদের তালিকা করছি এবং সরকারের কোন অনুদান আসলে কৃষকদের দেয়া হবে।