কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাবা মায়ের ঝগড়ার বলি হলো সাত মাসের শিশু তানভির আহমেদ মোজাহিদ। ঘটনাটি ঘটেছে ভৈরবের গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামে।
এ ঘটনায় নিখোঁজের ৬ দিন পর ডোবা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ৭ মাসের শিশু তানভীর আহম্মেদ, মুজাহিদদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে ভৈরব থানার পুলিশ। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগের তীর তারই জন্মদাতা পিতা মিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে পিতা মিরাজ মিয়া সহ তার দাদী রাবেয়া বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে ভৈরবের গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামে।
এলাকাবাসী জানায় গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামের মিরাজ মিয়া একজন মাদকাসক্ত। ঘটনার ৭ দিন পূর্বে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী তাসলিমা তার ৭ মাসের সন্তান তানভীরকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। সেখানে গিয়ে শিশুর শরীর খারাপ হলে পরের দিন তার দাদী রাবেয়া বগম ঔষধ কিনার কথা বলে বাড়িতে নিয়ে আসে। ওখান থেকে তার বাবা মিরাজ শিশুটিকে নিয়ে যায়। প্রথমে সে জানায় শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছে। এই ঘটনায় শিশুর মা তাসলিমা ভৈরব থানায় একটি মিসিং ডায়রি করে। আজ সকালে এলাকার কৃষকরা ধানের জমি দেখতে গিয়ে ডোবায় শিশুর অর্ধগলিত লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। এই সময় লাশ দেখতে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে।পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের মর্গে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানায়।
শিশুর মা তাসলিমা বেগম জানায় আমার সাথে আমার স্বামীর ঝগড়া হলে আমি আমার সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। পরের দিন তার দাদি ঔষধ কিনার কথা বলে আমার সন্তানকে বাড়ি নিয়ে আসে। এর পর থেকেই আমার ছেলে নিখোঁজ। আমার ছেলেকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
ভৈরব থানার এস আই রফিকুল ইসলাম জানায় আমরা খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পৌঁছে শিশুর লাশ উদ্ধার করে সুরত হাল রিপোর্ট তৈরি করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যাবে বলে জানান।