বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের পশ্চিমডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত ‘গোদাড়ার খাল’ দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী কয়েকটি মহল দখল করে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি জীবতলা গেট থেকে শশিখালী গেট পর্যন্ত পানি চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ। মাঝপথে বাঁধ দেওয়ার কারণে খালের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ব্যাহত হচ্ছিল এবং আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী উদ্যোগ নিয়ে বাঁধ অপসারণ করে খালটি দখলমুক্ত করেন। এতে খালের পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়রা আবারও মাছ ধরা ও কৃষিকাজে সুবিধা পাবেন বলে আশা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, খালটি দখল করে মাছ চাষ করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়েন। একদল দখল ছাড়লে আবার আরেক দল এসে দখল নেয়—এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে খালটি প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ তাদের।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি শেখ অয়েচকুরুনী বলেন, খালটি জনস্বার্থে উন্মুক্ত রাখা জরুরি। পানি চলাচল বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে ছিল। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে খালটি দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন আবার দখল না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
রাইজিং স্টার ইয়ুথ গ্রুপের সদস্য শেখ ইমরান বলেন, আমাদের এলাকায় যতগুলো খাল রয়েছে, প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে দখলে রয়েছে। প্রতিটি জায়গায় বাঁধ দেওয়ার কারণে খালের স্বাভাবিক গতিবিধি বোঝা যায় না। গোদাড়ার খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাঁধ কাটতে গেলে প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই মানুষের স্বার্থে নিজেদের জমির অংশ ছেড়ে দিয়েছেন। তারপরও এলাকাবাসীর দাবি—গোদাড়ার খাল’সহ সব খাল দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আলামিন বলেন, খালটি যদি সম্পূর্ণভাবে কাটা ও অবমুক্ত করা হয়, তাহলে আমরা মাছ ধরতে পারব, ধান চাষ করতে পারব। বৃষ্টির সময় পানি সহজেই বের হয়ে যাবে, জলাবদ্ধতা হবে না। কিন্তু একদল দখল ছাড়লে আবার আরেক দল এসে দখল করে—এটাই দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজুরুল হক রাহাদ বলেন, গোদাড়ার খালটি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে রাখার কারণে এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশনে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে খালটি দখলমুক্ত করতে সহযোগিতা করা হয়েছে। খাল, নদী ও জলাশয় দখলমুক্ত রাখা জনস্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে যাতে কেউ পুনরায় দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেখ শাহাদাত, শেখ হানিফ, শেখ রফিকুল ইসলাম, শেখ ইয়াসিন, শেখ মনি, আকঞ্জি মিজান’সহ স্থানীয়রা।
এছাড়া রাইজিং স্টার ইয়ুথ গ্রুপের সদস্য অর্ণব মিস্ত্রীও দখলমুক্ত কার্যক্রমে অংশ নেন। বাঁধ অপসারণের ফলে খালের পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কৃষকরা আবারও স্বাচ্ছন্দ্যে ফসল উৎপাদন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে।