বৈশাখের তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো বাগেরহাটে বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এস এস সি পরীক্ষার্থীও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে চলমান এস এস সি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
অনেক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করছেন, পড়তে বসলে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে—কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা পর আবার ফিরে আসছে। ফলে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে এবং মানসিক চাপও বাড়ছে।
অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেও, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা ঠিকমতো চার্জ দিতে না পারায় গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছেন না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্স পেশাজীবীরাও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সংকটে তাদের উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমনা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফ্যান, পানি সরবরাহ, মোবাইল চার্জ—সব ক্ষেত্রেই দেখা দিচ্ছে সমস্যা। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী ইসমাঈল জানায়, “পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব পড়বে।”
ইজিবাইক চালক বাপ্পি হাওলাদার বলেন, “আগে একবার চার্জ দিয়ে সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো চার্জ হয় না, আয়ও অনেক কমে গেছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এভাবে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আরও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার পূর্বেই এ সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে।