মাদকদ্রব্য সেবন নিষেধ করা কে কেন্দ্র করে নওগাঁয় রিক্সা চালক পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার প্রধান আসামি ছেলে সুমন (২৫) কে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
পুলিশ সুপার এর বিশেষ নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত মাহতাব আলী একজন রিকশাচালক ছিলেন। তার ছেলে সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। মাদকের নেশাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই বাবা-মা ও স্ত্রীর সঙ্গে তার পারিবারিক কলহ হতো। মারধর ও নির্যাতনের কারণে স্ত্রী ঢাকায় চলে যান। গত ৩ জুলাই স্ত্রী বাড়িতে ফিরে এলে আবারও পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়।
জানা গেছে, গত ৫ জুলাই রাতে মাহতাব আলী ও তার ছেলে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় বাবা ছেলেকে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ৬ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন তার বাবাকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে নিয়ে কাঠের বাটাম ও ইট দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহতাব আলীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ সুপার দ্রুত আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নির্দেশনা পাওয়ার পর ডিবির একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁ, বগুড়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় টানা অভিযান চালায়। গ্রেফতার এড়াতে আসামি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে বেড়ালেও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকা থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সব ধরনের গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অপরাধী যতই পালিয়ে বেড়াক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।