• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
উখিয়ার কোনাপাড়ায় বন্যার্তদের মাঝে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ পোরশার সমাবেশে কড়া হুঁশিয়ারি, বঙ্গোপসাগরেও পালানোর জায়গা পাবেন না, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী প্রধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিলে এক মাসের সন্মানী ভাতা দেওয়ার ঘোষণা এমপি সুগন্ধি সর. প্রা. বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে বাঘাইছড়িতে বন্যাকবলিত ৬ শতাধিক মানুষের পাশে মারিশ্যা জোন বিজিবি কুলিয়ারচরে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ পালিত কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভাড়া বাসা থেকে পিকআপ চালকের ম’র’দেহ উদ্ধার ডোমারে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন সহ নি’হত ৪ কুয়াকাটা বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’ হালুয়াঘাটে মা’দক’বিরোধী অভিযান: ছাত্রদল নেতাসহ ৩ জনের কা’রাদ’ণ্ড

বৃষ্টির রাতে ঘুম নয়, পানির সঙ্গে লড়াই মনোয়ারার

মো.বাবুল হোসেন, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

বৃষ্টি নামলেই মনোয়ারা বেগমের ঘুম ভেঙে যায়। ৭০ বছরের শরীর, কিন্তু চোখে ঘুম নাই। কারণ চার চালার উপরে যে ৫-৬ টা টিন, তার সবগুলোই ফুটো ঝরঝর করে পানি পড়ে। ভেজা কাঁথা বুকের কাছে জড়িয়ে বসে থাকেন। জোরে বাতাস দিলে মনে হয় এই বুঝি ঘরটা উড়ে গেল। চার খুঁটির ঘর, পাটকাটির বেড়া। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পরিত্যক্ত। অথচ এটাই তার রাজ্য। এটাই তার শেষ ঠিকানা। বলছি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের মালিদহ গ্রামের বিধবা মোনোমার বেগমের কথা।
মনোয়ারা বেগমের একটা সময় সুখের সংসার ছিলো। সেই সুখের সংসারে কালো মেঘ নেমে আসে স্বামীর মোসস্তফার মৃত্যুতে। ৩০ বছর আগে মোনোয়ারা বেগমের স্বামী মোস্তফা চলে গেলেন পরপারে। রেখে গেলেন ২টা বাচ্চা – ছেলে মিল্টন আর একটা মেয়ে।
মনোয়ারা বেগম মানুষের বাড়ি কাজ করেন। মাথা গোঁজার ঠায় হয় অন্যের বাড়ীর উঠানের কোণে ছোট্ট একটা ঘরে। সময়ের পরিক্রমায় ছেলেটা একটু বড় হয়ে সংসারের হাল ধরতে ভ্যান চালাতে থাকে। বিধবা মা স্বপ্ন দেখতে থাকে সুখের। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হয়ে যায় মনোয়ারা বেগমের । দৈনিন্দনের মত এক সকালে ভ্যান নিয়ে কাজে বের হয় মিল্টন। দিন গড়িয়ে রাত হলেও ফিরে আসে না সে। এ অবস্থায় খবর আসে ভ্যান ভাড়া নিয়ে গিয়ে মিল্টনকে মেরে ফেলেছে দৃস্কৃতিকারীরা। খবর পেয়ে মা বোনের আহাজারিতে শোকে থমকে যায় বাতাসও যেন। কিন্তুু জীবন থেমে থাকে না। সেই দিনের পর থেকে মনোয়ারার পৃথিবী অন্ধকার। এর মাঝেই মেয়েটাকে কোনো রকমে বিয়ে দেন। এতে পৈত্রিক শেষ জমিটুকুও শেষ।
বর্তমানে ভরসা মাসে ৫০০ টাকার বিধবা ভাতা। আর অন্যের বাড়িতে থালা-বাসন মাজা।
প্রতিবেদকের সামনে তিনি আঁচলে চোখ মুছে বলেন, বাবা, আমার কিছু লাগবে না। শুধু বৃষ্টির দিনে যেন মাথার উপর একটা ছাউনি থাকে। পুরাতন গুলা দিয়ে বেড়া দেবো। তাহলে আর ভিজতে হবে না। নিশ্চিতে একটু ঘুমাতে পারবেন এই টুকই তার চাওয়া ।
তিনি বলেন, “আগের মত আর কাজ করতে পারি না বাবা। এই টাকা কটায় পেট চলবে না ওষুধ কিনব ?
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন কে জানালে তিনি বলেন, “আবেদন করলে সরকারি ভাবে টিনের ব্যবস্থা করা যাবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category