বিশেষ প্রতিনিধি \ দেশ যখন শোকে মুহ্যমান, শোকে আচ্ছন্ন দেশ-বিদেশের সাধারণ মানুষ, দিনভর যাঁকে নিয়ে শোক বিরাজ করছে সর্বত্র তিনি হলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে শোকে বিহ্বল সকলে।
আপোষহীন এই নেত্রীর মৃত্যুতে দেশের আপামর জনসাধারন গভীর শোকে আচ্ছন্ন হলেও দৌলতপুরের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দৌলতপুর সাব-রেজিষ্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার উপজেলার দলিল লেখক, জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে গতকাল মঙ্গলবারও ঘুষ বাণিজ্য চালিয়েছেন অবাধে। শোকের দিনেও দুর্নীতির রাহুগ্রাস বন্ধ হয়নি তার। রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত চলেছে তার এমন অপকর্ম। গতকাল মঙ্গলবার ছিল তার শেষ কর্মদিবস। শেষ কর্ম দিবসেও শেষ হয়নি তার দুর্নীতি। দৌলতপুরবাসীকে জিম্মি করে অর্থ বাণিজ্য চালিছেন নির্বিঘ্নে।
দৌলতপুর সাব-রেজিষ্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হলেও তিনি থেকেছেন নির্লিপ্ত। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাকে নিয়ে দুর্নীতির বক্তব্য উপস্থাপন হলেও তিনি তা আমলে নেননি। জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভাতেও তার দুর্নীতির বিষয়ে মতামত উপস্থাপন হলেও তিনি থেকেছেন ভ্রুক্ষেপহীন। বোরহান উদ্দিন সরকার মুজিব সরকারের কোটায় পাওয়া সাব-রেজিষ্ট্রার পদের চাকুরীর শেষ কর্মদিবস ছিল গতকাল।
শেষ কর্মদিবসটাও তিনি কাটিয়েছেন জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বাণিজ্য। তবে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিদায় হওয়াতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দলিল লেখকগণসহ সর্ব সাধারণ। মহিষকুন্ডি এলাকার এক দলিল লেখক আক্ষেপ করে বলেন, বিদায়ের দিনে যদি জু..মালা পরিয়ে বিদায় দিতে পারতাম তাহলে সবচেয়ে বেশী খুশি হতে পারতাম, সেটাতো সম্ভব হলোনা। আজকের এই দু:খের দিনে, শোকের দিনেও তার অর্থ লিপ্সা বন্ধ হলোনা। দৌলতপুর থানা বাজারের বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বন্টননামা দলিলে একলক্ষ টাকা ঘুষ নেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যবসায়ী বলেন, এমন নির্লজ্জ ও বেহায়া কর্মকর্তা আমার জীবনে দেখিনি।
তবে বিদায় হওয়া দৌলতপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকারের কাছে কর্মজীবনের শেষ দিনের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এসব জেনে কী করবেন? আপনাদের এসব জেনে লাভ নাই। সাংবাদিকরা মনে করেন বাংলাদেশের সবাই নিকৃষ্ট অপদার্থ। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে এগুলো বললাম। আমি এও জানি কোন সাংবাদিক আওয়ামী লীগ করে, বিএনপি করে, জামায়াত করে। এখন আবার তারা সবাই বিএনপির হয়ে গেছে।
তিনি রেগে গিয়ে আরও বলেন, আমি কোনো সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিতে চাই না, কারণ তাদের মিথ্যার ঝুলিটা বেশি। আমি তো চোর-ডাকাত না। আমাদের তো আইডেন্টিটি আছে। তাছাড়া বাপ-দাদার কিছু না কিছু আছে। তারপরেও আমার মনে হয় আমি মানুষের কাছে নিকৃষ্ট হয়ে গেছি। এ সময় তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা টাকা কোথায় থেকে ইনকাম করেন, কী করেন আমরা জানি। আপনারা নিজের দিকে তাকান না, শুধু অন্যের দিকে তাকান। আল্লাহর তরফ থেকে আপনাদের উপর গজব পড়ুক। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের টিসি মোহরার শাকিব মুরাদ সাব-রেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকারের আজ (গতকাল মঙ্গলবার) কর্মজীবনের শেষ দিন ছিল বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।