শিরোনাম :
হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্ম—৮ মাসের মুনতাসীরকে বাঁচাতে পরিবারের আকুতি টাঙ্গাইল মির্জাপুরে নারীসহ ৫ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণায় সংবাদ সম্মেলন ঠাকুরগাঁওয়ে বারি পেঁয়াজ-৫ বীজ উৎপাদনে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত গাজীপুরে শিখা প্রল্পের অরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২ বাগেরহাটে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু ঠাকুরগাঁওয়ে কলাবাগান থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার স্ত্রীর দাবি স্বামী মুসলিম আর মা বলছে ছেলে হিন্দু, মৃত্যুর পর চিতায় দেওয়ানের চর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্ম—৮ মাসের মুনতাসীরকে বাঁচাতে পরিবারের আকুতি

তপন দাস, নীলফামারী প্রতিনিধি / ২ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

জন্মের পর থেকেই অসুস্থতা যেন নিত্যসঙ্গী। ঠিকমতো হাসতে শেখার আগেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই—এমনই নির্মম বাস্তবতার মধ্যে দিন কাটছে নীলফামারীর ৮ মাস বয়সী শিশু মুনতাসীর আল আয়াতের। জন্মগতভাবে হৃদপিণ্ডে ছিদ্র (হার্টে ফুটো) নিয়ে জন্ম নেওয়া এই শিশুটিকে বাঁচাতে এখন দিশেহারা তার অসহায় পরিবার।

নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নটখানা কলোনি পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাজু আহমেদ ও মৌসুমি বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে মুনতাসীর। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট সে। পরিবারের স্বপ্ন-আশার আলো হয়ে জন্ম নিলেও জন্মের পর থেকেই অসুস্থতায় জর্জরিত হয়ে পড়ে শিশুটি।

শিশুটির মা-বাবা জানান, “জন্মের পর থেকেই ওকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরছি। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, কিন্তু সুস্থ করতে পারিনি। সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হলে নীলফামারী সদর হাসপাতালে দেখালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানান, ওর হার্টে ছিদ্র আছে। দ্রুত ঢাকায় নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাতে হবে।”

চিকিৎসকের পরামর্শে ইতোমধ্যে ২-৩ দফা ঢাকায় নেওয়া হয়েছে মুনতাসীরকে। কিন্তু প্রতিবারই চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার বাবা। শিশুটির বাবা রাজু আহমেদ বলেন, “আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ। কোনো রকমে কাজ করে সংসার চালাই। ছেলের চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন বসতভিটা ছাড়া আর কিছু নেই। সেটাও বিক্রি বা বন্ধক রাখতে হচ্ছে। তবুও পুরো চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছি না।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, দারিদ্র্য যেন এই পরিবারটির নিয়তি। তার ওপর একমাত্র সন্তানকে বাঁচানোর সংগ্রাম তাদের আরও অসহায় করে তুলেছে।
ওই এলাকা বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “রাজু নিজেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। খুব কষ্টে হোটেলের কাজ করে সংসার চালান। ছেলের চিকিৎসার জন্য তিনি যা পারছেন সব করছেন, কিন্তু এই ব্যয় তার পক্ষে বহন করা অসম্ভব। আমরা অনেকেই সাধ্যমত কিছু সাহায্য করেছি, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।”

আরেক প্রতিবেশী রহিমা বেগম বলেন, “শিশুটাকে দেখলে চোখে পানি চলে আসে। সারাক্ষণ কষ্টে থাকে। মা-বাবার আহাজারি সহ্য করা যায় না। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে হয়তো বাচ্চাটার জীবনটা বাঁচানো সম্ভব।”

পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম তালুকদার জানান, “বিষয়টি আমি অবগত আছি। ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছি এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছি। তবে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আরও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন, যা সমাজের সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।”

চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও অপারেশন করানো গেলে মুনতাসীর সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু অর্থাভাবে থমকে আছে সেই সম্ভাবনা।

এ অবস্থায় মুনতাসীরের বাবা-মা দেশবাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন—মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে যেন তাদের সন্তানকে নতুন জীবন দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

সাহায্যের জন্য যোগাযোগ: বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৭৮৮২৩৩৩৬২ (শিশুর বাবা)

একটু সহানুভূতি, সামান্য সহযোগিতাই হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি নিষ্পাপ প্রাণ—ফিরিয়ে দিতে পারে একটি পরিবারের হাসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category