বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সংকট নিরসনে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা অর্জনের নিমিত্তে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নরসিংদী জেলা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন তথ্য পেয়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে। টিমটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পদ্মা অয়েল ডিপোর উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং সেখানে সারাদিন অবস্থান করে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখে। বিকাল ৩টার দিকে “মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজ”-এর একটি লাল রঙের ট্যাংক-লরি পদ্মা অয়েল ডিপোতে প্রবেশ করে যার মধ্যে নয় হাজার লিটার ডিজেল লোড করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে ট্যাংক-লরিটি নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওনা হলে গোয়েন্দা টিম গোপনে উক্ত ট্যাংক-লরিটিকে অনুসরণ করতে থাকে। রাত আনুমানিক ৮টায় ডিজেল বোঝাই ট্যাংক-লরিটি নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন পাঁচদোনা মূলপাড়া, জিনারদী এলাকার “নূর নাবিলা ডিজিটাল প্রিন্টিং” এর সামনে এসে থামলে ২০-২৫টি ড্রামে ডিজেল আনলোড করতে শুরু করে। এসময় গোয়েন্দা টিম নরসিংদী জেলা পুলিশকে অবগত করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কলিমুল্লাহ এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), অফিসার ইনচার্জ মাধবদী থানা এবং ডিবি নরসিংদীর চৌকস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পাশাপাশি বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এফ.এম. নাঈম হাসান শুভ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তেলের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, “নূর নাবিলা ডিজিটাল প্রিন্টিং”-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ জহিরুল ইসলাম কোনো অনুমোদিত ডিলার বা লাইসেন্সধারী না হওয়া সত্ত্বেও অবৈধভাবে উক্ত নয় হাজার লিটার ডিজেল মজুদ করছিল। এমতাবস্থায় উক্ত ডিজেল বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। সেই সাথে “নূর নাবিলা ডিজিটাল প্রিন্টিং”-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ জহিরুল ইসলাম (৩৫)-কে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ এর ২০(১) ধারা মোতাবেক দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং কমল হাসান মানিক (৪৬) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪০ ধারা মোতাবেক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।