উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার গৌরবোজ্জ্বল ৭৫ বছর পূর্তি (প্লাটিনাম জয়ন্তী) উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। ২০২৩ সালে আয়োজনের কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে বিলম্বিত হয়ে অবশেষে রবিবার (২২ মার্চ) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ৯টায় উপস্থিতি ও উপহার সংগ্রহ, সকাল ১০টায় আনন্দ র্যালি, সকাল ১১টায় আলোচনা সভা, দুপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সংবর্ধনা ও মধ্যাহ্নভোজ, বিকেলে স্মৃতিচারণ এবং সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মোঃ আলতাফ হোসাইন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম, ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিম উদ্দিন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা আমীর মোঃ আজিজুর রহমান সরকার, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা আমীর মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক মোঃ কাজী আলাউদ্দিন, ভুরুঙ্গামারী উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোঃ ফখরুজ্জামান জেট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মাহফুজুল ইসলাম কিরণসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শিক্ষাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মোঃ মেফতাউল ইসলাম মিলন, ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আসাদুজ্জামান বুলবুল, বাউসমারী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আব্দুল মজিদ এবং সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রমিজ উদ্দিন মন্ডল।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ফাজিল পর্যন্ত প্রায় ৮৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন বর্তমান শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৪০০ জন সাবেক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সর্বমোট প্রায় ৭৫০ জন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।
প্রথমে সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০০ টাকা এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে যথাক্রমে ৫০০ ও ৩০০ টাকা করা হয়।
৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির মাধ্যমে এ আয়োজন পরিচালিত হয়। আয়োজকরা জানান, কিছু সীমাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ঘাটতির কারণে প্রত্যাশিত সংখ্যক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মোঃ আলতাফ হোসাইন বলেন, “৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে যারা অর্থ ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করেছিলাম কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে, কিন্তু কিছু ত্রুটি ও সঠিক যোগাযোগের অভাবে অংশগ্রহণ কম হয়েছে। শতবর্ষ উদযাপন সামনে রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা নিতে হবে এবং শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তবে অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিতে না পারায় আমরা দুঃখিত। ভবিষ্যতে শতবর্ষ উদযাপনকে সফল করতে সবাইকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত মাদ্রাসাটিতে মোট ১০ জন অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রায় ৮৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ ৭৫ বছরের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।