গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের উপর ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের বর্বর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং লাঞ্ছনার প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জে কর্মরতঃ সাংবাদিক নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে হাসপাতালটির সব ধরনের ‘পজিটিভ নিউজ’(ইতিবাচক সংবাদ) বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতির মতো নেতিবাচক সংবাদ গুলো যথারীতি প্রকাশ করা হবে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, গত ১৫ মে রাতে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করেন মৃতের স্বজনেরা। এই সংবাদের সত্যতা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের জন্য সেখানে যান চ্যানেল নিউজ ২৪ এর প্রতিনিধি সামিউল আলিম এবং ‘ডিবিসি নিউজ এর ক্যামেরা পারসন তমাল খান। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালের কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা হঠাৎ করেই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। তারা দুই সংবাদকর্মীকে আটকে রেখে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা পেশাগত ক্যামেরা ও মুঠোফোন ভাংচুর করে।
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক নেতারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন এর একটি শান্তিপূর্ন সমাধান করার জন্য। কিন্তু, কর্তৃপক্ষ এখনো কোন শান্তিপূর্ন সমাধান দিতে না পারায় সংবাদকর্মিরা ১৯ মে সভা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজুর রহমান রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সংগঠনের সাধারন সম্পাদক জাবেরুল ইসলাম বাধন, যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মোজাম্মেল হোসেন মুন্না, চ্যানল আই এর সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাবুল, রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক একরামুল কবির মুক্ত, দৈনিক আজকের গোপালগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক ও বৈশাখী টিভির সাংবাদিক মোস্তফা জামান, এটিএন বাংলার সাংবাদিক চৌধুরী হাসান মাহমুদ, গোপালগঞ্জ প্রিন্ট মিডিয়া জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সভায় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও কর্মরত সাংবাদিকরা জরুরি বৈঠকে সাংবাদিকদের ওপর এই হামলাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।