কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর জটিলতায় মিষ্টি খাতুন নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও দায়িত্বরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী সেন্ট্রাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মিষ্টি খাতুনের সিজার অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। অপারেশনের কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে পরিবারের অভিযোগ। তারা দাবি করেন, অপারেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি এবং পরবর্তী চিকিৎসা সেবায়ও অবহেলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রাশেদুল কবির (আখের) জানান, গত ২৩ মার্চ মিষ্টি খাতুনের সিজার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং ২৭ মার্চ তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ৩১ মার্চ তার সেলাই কেটে ফেলা হয়। ৩ এপ্রিল হঠাৎ করে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে ক্লিনিকে এনে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয় এবং অবস্থার উন্নতি হলে আবার বাড়ি পাঠানো হয়। তবে পাঁচ দিন পর পুনরায় রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে স্বজনরা তাকে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরায়ু অপসারণ (হিস্টেরেকটমি) করা হয় এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জানতে রোগীর নিকটাত্মীয় রফিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রোগী নাগেশ্বরীতে না রংপুর প্রাইম মেডিকেলে মারা গেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিহত মিষ্টি খাতুন নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), নাগেশ্বরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলার সকল ক্লিনিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, অফিস সময়ে কোনো চিকিৎসক ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করলে বা হাসপাতাল থেকে রোগীকে নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।