কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৮ ইঞ্চি জায়গা নিয়ে দুই ভাইয়ের মারামারিতে মনির মিয়া (২১) নামে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এলাকায় দুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি গোপনাঙ্গে লাথি দেয়ার ফলে মনিরের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিপক্ষের বরাতে স্থানীয়রা বলছে স্টোক করে মৃত্যুবরণ করেছে। আজ ২২ মে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের জগমোহনপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহত মনির মিয়া আগানগর ইউনিয়নের জগমোহনপুর এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে। এতথ্য নিশ্চিত করেছে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আতাউর রহমান আকন্দ।
স্থানীয়দের ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ মে সকালে আগানগর ইউনিয়নের জগমোহনপুর এলাকার হাজী বাড়ির সফর উদ্দিনের ৫ ছেলের জমি মাপামাপি চলছিল। এসময় জমির মাপে ৮ ইঞ্চি জায়গা নিয়ে তাজুল ইসলাম ও তার ভাই মুতিবুর মিয়ার সাথে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারিও হয়। এসময় তাজুল ইসলামের ছেলে মনির মিয়া বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের উত্তেজনা তৈরি হলে একে অপরের ঘর থেকে লাঠিসোঁটা আনতে গেলে নিজ ঘরের মধ্যে মনির হোসেন মাঠিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে ভাতিজা মনির মিয়া মৃত্যু বরণ করেছে। যতটুকু জানতে পেরেছি মনির অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়েছিল। মারামারির এক পর্যায়ে ঘরে গিয়ে অসুস্থ হয়েছিল মনির। কেউ বলছে স্টোক করে মৃত্যু হতে পারে আবার কেউ বলছে মারধরে মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, আমি আমার ভাইয়ের জায়গার ভিতরে ৮ ইঞ্চি জায়গা পাই। জমির আমিন এসে মাপামাপি করে আমাকে জায়গা বুঝিয়ে দিতে গেলে আমার ভাই আমাকে মারতে আসে। একপর্যায়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে কিল-ঘুষি দেয়। আমাকে আমার ভাই লাঠি দিয়ে আঘাত করতে আসলে আমার ছেলে ফেরাতে চেষ্টা করে। এসময় আমার ছেলেকে তার গোপনাঙ্গে লাথি দিয়ে থাকতে পারে।
মারধরের কারণেই ছেলে মৃত্যু বরণ করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, আমি আমার ভাইসহ হত্যাকারীদের কঠোর বিচার চাই।
নিহতের চাচাতো ভাই ফয়সাল মিয়া বলেন, আমার চাচাতো ভাই মনির খুব ভালো মানুষ ছিলো। সে বিভাটেক চালক হিসাবে কাজ করতেন। আমার দুই চাচার বাড়ির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আজকে দরবার হয়। দরবার চলাকালীন সময়ে দুই চাচার মধ্যে মারধোরের ঘটনা ঘটে। এসময় মারধোরে আঘাত পেয়ে আহত হয়ে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে৷
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত চাচা মুতিবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করলেও তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ মনির হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে কিছুটা রহস্যজনক মনে হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।