• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
Headline
নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা জয়পুরহাটে ৭২ কেজির কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪ সামাজিক ক্ষমতায়নে ব্র্যাকের সচেতনতামূলক সভা ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার, যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড পানছড়িতে বিএনপির সাংগঠনিক সভা, তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ভৈরবে চেয়ারম্যান প্রার্থী আফিকুল ইসলাম হারিছের সমর্থনে উঠান বৈঠক জয়পুরহাটে গৃহবধূ সাজেদা হ’ত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কুপিয়ে হ/ত্যা, ছেলে আটক রামপালে জমি বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ছেলে নি’হ’ত, বাবা আহত কাপ্তাইয়ে ২৫ ফরেস্ট গার্ডের সপ্তাহব্যাপী বেসিক ফরেস্ট্রি প্রশিক্ষণ শুরু

সাপাহার সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানে ভেস্তে গেল বিএসএফের পুশ-ইন অপচেষ্টা

রাজেকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে শেষ পর্যন্ত ওই ১৭ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ ঘটনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে ৮৮ বিএসএফ পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ৫ জন শিশু ছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয় বিজিবি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করলে বিএসএফের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করলেও তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টরচালক মাহবুব আলম জানান, রাত ১১টার সময়ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। পরে গভীর রাতে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের জোরপূর্বক ভারতের দিকে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের কান্নাকাটির শব্দ স্থানীয়রা শুনতে পান বলে তিনি দাবি করেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, বিষয়টি জানার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়। মানবিক বিবেচনায় শুরুতে তাদের শূন্যরেখায় থাকতে দেওয়া হলেও সন্ধ্যার পর নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করতে বলা হয়। রাত ১টার দিকে বিএসএফ সীমান্ত এলাকার আলো নিভিয়ে দেয়। পরে তারা পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ওই ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, বিজিবির দায়িত্বশীল ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের বিরুদ্ধে বিজিবির এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।

সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে একতরফাভাবে মানুষকে অন্য দেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক আস্থার জন্যও প্রশ্নের জন্ম দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category