টাঙ্গাইল মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, একসময় গোপনে পরিচালিত হলেও বর্তমানে কিছু এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করেছে। এর ফলে তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য,ইয়াবা,গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা বাড়ার পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার প্রতি তরুণদের আসক্তিও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু নিম্নআয়ের পরিবার নয়, অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তানদের মধ্যেও এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, “আগে মাদক নিয়ে গোপন আলোচনা শুনতাম, এখন অনেক ক্ষেত্রে বিষয়গুলো প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সন্তানদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”
স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তরুণ জানান, অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনেকেই দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় যুক্ত হচ্ছে। পরে তারা ঋণ, হতাশা ও অপরাধের ঝুঁকিতে পড়ছে।
এলাকার সচেতন মহলের মতে, মাদক ও জুয়ার বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক সংকট। তারা মনে করেন, প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্ব, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লেও মাদকবিরোধী কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিরা মনে করেন, মসজিদের ইমাম, আলেম-ওলামা, শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনগুলো যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
সচেতন নাগরিকদের দাবি,আনাইতারা ইউনিয়নকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার কবল থেকে রক্ষা করতে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তারা নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কিশোর-তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, “আজ যদি আমরা নীরব থাকি, আগামী প্রজন্মকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময়।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদকদ্রব্য বিক্রির স্পটগুলোতে মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের আটক না করার কারনে তারা দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মতে, কিশোরদের এই ভয়াবহ ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন কঠোর মাদকবিরোধী অভিযান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার থেকে নিয়মিত নজরদারি।