নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য আসা পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পিএফএস) নামক একটি সুবিধার তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্বচ্ছতার দাবি তুললেও অন্তত সুবিধাভোগী ৫কৃষকের নাম বলতেও গড়িমসি করেছেন কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন।
মোস্তাকিমা খাতুন রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে গত ২০২৫সালে ২জানুয়ারি যোগদান করেন। অবশ্য বেশ কিছুদিন ঘোরাঘুরির পর কিছু তথ্য দিয়েছেন। এরমধ্যে পার্টনার ফিল্ড স্কুলের উদ্বোধনীর তথ্য। তিনটি স্কুলের নাম ও কৃষকসহ জড়িতদের সন্মানির তথ্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের খরচ ও কৃষকসহ অন্যান্য ব্যক্তিদের দেওয়া সন্মানি নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট প্রশ্ন ও সন্দেহ। এছাড়া ১৫টি প্রদর্শনীর কথা বলা হয়েছে। তবে দেওয়া হয়নি প্রদর্শনীর সুবিধা পাওয়া কৃষকদের নাম। এমনকি অফিসে বারবার চাইতে গেলেও দেখানো হয়েছে তালবাহানা।
আর এতে করে কৃষকদের জন্য আসা প্রদর্শনীর বরাদ্দ সঠিকভাবে কৃষককে দেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন। অপরদিকে কৃষকরা তাদের জন্য আসা নায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা যায়, কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার থেকে দেওয়া পার্টনার ফিল্ড স্কুল নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা আসে উপজেলা কৃষি অফিসে। এরমধ্যে পার্টনার ফিল্ড স্কুলে কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রদর্শনী। সেই পার্টনার ফিল্ড স্কুলে প্রশিক্ষণের পর ওই সকল কৃষকদের জন্য দেওয়া হয়েছে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সন্মানি। এবং প্রদর্শনীর জন্যও আছে কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ। যেগুলো সরকার থেকে শুধুমাত্র কৃষকদের জন্যই বরাদ্দ দিয়েছেন। অথচ সেই বিষয়ে দিনের পর দিন এবং মাসের পর মাস ঘুরেও মিলছেনা তথ্য, করা হচ্ছে না সহযোগিতা। আবার নামমাত্র কিছু তথ্য দিলেও সেগুলো নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। যার মধ্যে পার্টনার ফিল্ড স্কুলের উদ্বোধনী বরাদ্দের ২লাখ টাকা খরচ নিয়ে আছে সন্দেহ। আবার প্রশিক্ষণের বরাদ্দ নিয়েও আছে প্রশ্ন। এছাড়া কৃষকদের জন্য আসা বিভিন্ন প্রদর্শনী নিয়ে আছে অনেক সন্দেহ। প্রশ্ন উঠছে স্বচ্ছতার।
এদিকে তথ্য দিতে চেয়েও বিভিন্ন অজুহাত দেখালেন কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন। বারবার নিষেধ করেন নিউজ না করার জন্য।
তবে এই কর্মকর্তার মতো নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মনজুর রহমানকে বলেও পাওয়া যায়নি সুরাহা। বরং জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আপনাদের কাজ কি এগুলো, বলেন তো? এগুলো ফোনে না বলে অফিসে আসেন, তখন কথা বলি। সব প্রশ্নতো ফোনে বলা যায়না। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দের বিষয়ে অন্য কোনো সাংবাদিক আমাকে এভাবে বলেনা। একমাত্র শুধু আপনি বলছেন।
আর মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তাকে বলে দিয়েছি। এরপর আমার সামনে স্যার আছে জানিয়ে পরে কথা হবে বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন উপ-পরিচালক মোঃ মনজুর রহমান।