কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অপহরণকৃত দুই শিক্ষার্থী ১৭ ঘন্টাপর মাদ্রাসায় ফিরেছে। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুর ২টায় আচমকা মাদ্রসায় হাজির হয় অপহরণ হওয়া শিক্ষার্থী জুনায়েদ মিয়া (১৩) ও সাইফ হাসান (১৫)। এদিকে তাদেরকে মাদ্রাসায় ফেরা নিয়ে চলছে নানান গুঞ্জন। আদৌ তারা অপহরণ হয়েছিল কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ। এর আগে ১৭ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৯টায় উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর ছনকান্দা মসজিদের পাশ থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের ফিরে আসা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
এদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট করতে অপহরণ নাটক সাজিয়েছিল ৫ শিক্ষার্থী। তারা হলেন, মাদ্রাসার হাফেজ বিভাগের শিক্ষার্থী জুনাইদ মিয়া (১৩), সাঈদ হাসান (১৫), ইমামুল মিয়া (১৩), মোসাহিদ মিয়া (১১) ইউসুফ মিয়া (১২)।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও বেশ কয়েকজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী স্থানীয় বিভিন্ন বাড়ি থেকে লজিং শিক্ষকদের খাবার সংগ্রহ করতে যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবীপুর ছনকান্দা এলাকায় ফজলুল হক মেম্বারের বাড়ি থেকে ৫ শিক্ষার্থী খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় ফেরার পথে নবীপুর ছনকান্দা মসজিদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা রঙের নোহা প্রাইভেটকার থেকে ৪/৫ জন ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে। তখন দেশীয় অস্ত্রের মুখে ৫ ছাত্রকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করলে কৌশলে দৌড়ে তিন শিক্ষার্থী পালিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এসময় অস্ত্রের মুখে জুনায়েদ মিয়া ও সাইফ হাসান নামে দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় ১৭ আগস্ট সোমবার দিবাগত রাত ১২টায় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ভৈরব থানায় অপহরণের অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ১৭ আগস্ট রাতে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে থানা পুলিশ তৎপর ছিল। ১৮ আগস্ট দুপুরে অপহরণ হওয়া দুই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় ফিরে এসেছে জানতে পেরেছি। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়েছে। মাদ্রাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেন অপহরণ হয়েছে বা অপহরণ হয়েছিল কিনা এ বিষয় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক দেলোয়ার হোসাইন ও পরিচালক মো. জামাল মিয়া বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে লজিংয়ে মাধ্যমে খাবার আনে। ১৭ আগস্ট রাতে দুই ছাত্র অপহৃত হয়েছে বলে আমাদের জানায়। আমরা তাৎক্ষণিক থানায় অপহরণের অভিযোগ দেয়। ১৮ আগস্ট দুপুরে দুইজন ফিরে আসলে আমরা জানতে পারি বিষয়টি সম্পূর্ণ নাটক ছিল। আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে থানা পুলিশের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।