৩৪ শতাংশ জমির মালিকানা ও নামজারি নিয়ে বিরোধ, ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ননীক্ষীরের বড় ভারটায় ৩৪ শতাংশ খাসজমির মালিকানা, বন্দোবস্ত, নামজারি ও বিক্রয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নারীসহ দুজনকে মারধর, বাড়িতে হামলা, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রাণনাশের হুমকি ও পিস্তল প্রদর্শনের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুকসুদপুরের বড়ভাটরা মৌজার ৩৪ শতাংশ জমিটি তাদের দাদা বাহের শেখের নামে একসনা বন্দোবস্তের আওতায় ছিল। তাদের দাবি, জমিটির পুরোনো খতিয়ান নম্বর ৫৪, বর্তমান খতিয়ান ২৯৭, পুরোনো দাগ ১০৪৪ এবং বর্তমান বিআরএস দাগ ১২৪৯।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নীলকণ্ঠ মণ্ডল ও তার ভাই কথিত জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ওই খাসজমি নিজেদের নামে নামজারি করে পরে জামাল হোসেন বেপারী ও সাবিনা বেগমের কাছে বিক্রি করেন। এরপর জমির নতুন দাবিদারদের সঙ্গে বিরোধকে কেন্দ্র করে বাহের শেখের ওয়ারিশদের ওপর হামলা ও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
লাবনী আক্তারের থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি লোহার রড, রামদা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্বামী নাসির উদ্দিন শেখকে মারধর করেন। একপর্যায়ে লাবনী আক্তারের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি এবং গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহতরা মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
পরিবারটি এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছে।
এদিকে, জমিটির বন্দোবস্ত, খতিয়ান, নামজারি, দলিল ও বর্তমান দখল সরকারি নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি হামলা ও অন্যান্য অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে নীলকণ্ঠ মণ্ডল, তার ভাই, জামাল হোসেন বেপারী ও সাবিনা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।