আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা চরমে। এ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে মোট ১৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৭টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকৃতপক্ষে ৬৬টি ভোটকেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এ আসনে এবার মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী মাঠে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও পোস্টার লিফলেটের মাধ্যমে জোর প্রচার চলছে।
তবে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটসঙ্গী হলেও বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে তারা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির একজন স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দলীয় প্রার্থী, স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ প্রার্থী একসঙ্গে মাঠে থাকায় বিএনপির ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিএনপি প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোট কারচুপির কারণে আসনটি হাতছাড়া হলেও এবার তা পুনরুদ্ধারে দলটি সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।
এ উপজেলায় ৬০,৮৬৬ জন তরুণ ভোটার রয়েছে যা এবারের নির্বচনে বড় ভ(vu)‚মিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকেই। তারা বলছে, দলীয় পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা, সততা ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনাকে প্রাধান্য দিয়েই তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,০৪,৫০৪ জন। এর মধ্যে মোট পুরুষ ভোটার: ২,০৩,৪৯২ জন, মোট নারী ভোটার: ২,০১,০১১ জন ও হিজড়া ভোটার রয়েছে ১ জন।
এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সাহাবুল মাহমুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মুফতি আমিনুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট এর প্রার্থী বদরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহরিয়ার জামিল জুয়েল এবং বিএনপি (স্বতন্ত্র) প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা।
এ উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নেই রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র, প্রাগপুর ইউনিয়নে ৫টি, মথুরাপুর ইউনিয়নে ৫টি, ফিলিপনগর ইউনিয়নে ৫টি, রামকুঞ্চপুর ইউনিয়নে ৫টি, চিলমারী ইউনিয়নে ৬টি, রিফায়েতপুর ইউনিয়নে ৪টি, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে ৫টি, দৌলতপুর সদর ইউনিয়নে ৪টি, হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৭টি, মরিচা ইউনিয়নে ৫টি, বোয়ালিয়া ইউনিয়নে ৩টি, খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নে ৪টি, আড়িয়া ইউনিয়নে ৩টি ও পিয়ারপুর ইউনিয়নে ৫টি মোট ৬৬টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে রয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দৌলতপুরে ভোট ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৫৭টি এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ৪৭টি ভোট কেন্দ্র।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ভোটাররা ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এছাড়া বিস্তির্ণ চরাঞ্চলের ভোট কেন্দ্র গুলোতে আরোও বেশি নজরদারী থাকবে।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ, যেখানে তাদের মতামত নির্ভয়ে প্রকাশ করতে পারবে। তারা এমন নেতৃত্ব চান, যারা দুর্নীতিমুক্ত শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
সব ইউনিয়নেই ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে নিরাপত্তা দুর্বল হলে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে বলে আশঙ্কা আট প্রার্থীর লড়াইয়ে বিএনপি-জামায়াতের মূল ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’