• শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
Headline
নীলফামারী বৌদ্ধ বিহারে বৃক্ষ রোপন কর্মসুচি পালিত নিখোঁ’জের ১২ ঘণ্টা পর সিলেট থেকে মাধবপুরের স্কুলছাত্র সৈয়দ সাদাফ উদ্ধার মিরপুরে নিখোঁ’জের ৪ দিন পর খালে মিলল কোমরে বালির বস্তা বাধা বৃদ্ধার লা/শ নাসিরনগরে দুই গোষ্টির ভয়াবহ সং’ঘ’র্ষে, যুবক নি/হ/ত আ’হ’ত অর্ধশতাধিক মিরপুরে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার ধাক্কায় সাবেক প্রধান শিক্ষক নিহত হালুয়াঘাটে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে বর্নাঢ্য আয়োজনে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম শুভ জন্মাষ্টমী পালন ডা. সাইফুজ্জামানের এমডি অর্জন, গ্রীন লাইফ হাসপাতালের শুভেচ্ছা ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য এক- মানবকল্যাণ :কুমিল্লায় কৃষিমন্ত্রী ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব

মরার পরও ভরসা নেই’, তাই নিজের কবর বানিয়ে রাখলেন আয়েশা বেগম

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ঘরের পাশেই একটি কবর। প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কবরটির পাশ দিয়েই হাঁটেন আয়েশা বেগম। কখনো দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন। যেন নিজের শেষ ঠিকানাটিই আগেভাগে দেখে নেন। মৃত্যুর পর সন্তানরা দাফনের দায়িত্ব নেবে সেই বিশ্বাস হারিয়েই জীবিত অবস্থায় নিজের কবর নিজেই প্রস্তুত করে রেখেছেন ৭০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা।

ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বড়বালিয়া পাইকারমনি গ্রামের। আয়েশা বেগম ওই গ্রামের মৃত আয়নাল হকের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, স্বামীর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে সন্তানদের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন আয়েশা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, তিন ছেলে তার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার পর আর খোঁজখবর নেন না। কিছুদিন ছেলেদের বাড়িতে থাকলেও বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেও চলে আসতে হয় তাকে। পরে স্বামীর দেওয়া জমির ওপর একটি জরাজীর্ণ ঘর তুলে একাই বসবাস শুরু করেন তিনি। সেই ঘরের পাশেই নিজের হাতে একটি কবর তৈরি করে রেখেছেন আয়েশা বেগম। তার আশঙ্কা, মৃত্যুর পর সন্তানরা হয়তো দাফনের দায়িত্বও নেবে না। তাই জীবদ্দশাতেই শেষ আশ্রয়টুকু প্রস্তুত করে রেখেছেন।

বৃদ্ধার ঘরটিও মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। টিনের চাল ফুটো হয়ে বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। নেই বিদ্যুৎ-সংযোগ। রাত কাটে অন্ধকারে। নিয়মিত খাবারেরও নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় না খেয়েই দিন পার করতে হয় তাকে। প্রতিবেশীদের দেওয়া সহায়তাই এখন তার বেঁচে থাকার প্রধান ভরসা।

কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেদের মানুষ করেছি। এখন কেউ একবারও এসে জিজ্ঞেস করে না, ‘মা, তুমি কেমন আছো?’ ঘরে পানি পড়ে, অন্ধকারে থাকি। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়। আমার মৃত্যুর পর কী হবে, সেই চিন্তা থেকেই নিজের কবর বানিয়ে রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর হলো আমি একা থাকি। বর্ষার সময় এক হাটু পানি লাগে বাড়ির আঙ্গিনায়। মাছ-গোস্ত খাইনি অনেক দিন। ছেলেরা খোঁজও নেয় না। এখন প্রতিদিন মৃত্যুর দিন গণনা করছি। বিদায় নিতে পারলেই বাঁচি। এভাবে আর কত দিন বেচে থাকা যায় বলেন। যে সন্তানদের খেয়ে না খেয়ে বড় করলাম তারাই আজ আমাকে তাদের বোঝা মনে করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এলাকাবাসীদের বলা আছে, আমি মারা গেলে তারা যেন আমার দাফনটা করে দেয়। আমার সন্তানের উপর কোনো ভরসা নেই আমার। বেঁচে থাকতেই খোঁজ নেয় না, আর মারা গেলে তো তারা বেঁচে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে একাই বসবাস করছেন আয়েশা বেগম। এলাকার লোকজনই মাঝে মধ্যে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন। মৃত্যুর পর তাকে যেন এই কবরেই দাফন করা হয় এ কথাও তিনি স্থানীয়দের বলে রেখেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পী বলেন, চাচি প্রায়ই বলেন, মারা গেলে তাকে যেন এই কবরেই দাফন করা হয়। তার ছেলেরা সবাই ব্যবসা করেন, আর্থিক অবস্থাও ভালো। কিন্তু কেউ মায়ের খোঁজ নেন না। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলেও উল্টো আমাদের সঙ্গেই খারাপ আচরণ করা হয়।

এ বিষয়ে আয়েশা বেগমের দুই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category