• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline
কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আশেপাশে দোকানপাট বিচার প্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি হবিগঞ্জে প্রতিমন্ত্রীর আসন ছেড়ে শিশুদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদান, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বড়লেখায় জমিতে বাঁধাসহ চাঁদা দাবির অভিযোগ, ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পাঁচবিবি বিয়াম স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে শ্রেণিক্ষে ক্লাস নিলেন ইউএনও কাশপিয়া তাসরিন কুমিল্লায় নিখোঁজের দু্ইদিন পর ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার পাঁচবিবিতে নৈশপ্রহরীকে বেঁধে রেখে খামার থেকে ৬০০ মুরগি লুট শীতের আগমনী বার্তায় পাঁচবিবিতে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই চান স্বামীহারা নাদিরা ভৈরবে বিয়ের পরদিন স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে নববধূ উধাও

কুমিল্লায় নিজ মাকে কু’পিয়ে হ’ত্যা মা’মলায় ছেলেকে যাব’জ্জীবন

এ.কে পালাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশকাল : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের টাকার জন্য সেজদারত অবস্থায় বৃদ্ধা মাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিককে (৪৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘাতক আবু বক্কর সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি তাঁর ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মোছা. খায়েরা বেগম ওরফে খায়রুন্নেছার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে মা যখন জোহরের নামাজ আদায়ের সময় সেজদায় যান, তখন আবু বক্কর সিদ্দিক কুড়াল দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম বাদী হয়ে ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিককে একমাত্র আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসের তদন্ত শেষে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে মামলার বাদী ও নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছিল। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়ই মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত জোহরের নামাজের সময় সেজদারত অবস্থায় সে মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারল।

তিনি আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ঘাতক ভাইয়ের সাজা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিককে কড়া পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category